Categories
জাতীয়

মার্কিন দাবি মেনে সমকামিতার অধিকার স্বীকৃতির সুযোগ নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ধর্মীয় ও সাংবিধানিক কারণে বাংলাদেশে সমকামিতা বা এলজিবিটি অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়ার মার্কিন দাবি পূরণের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।
বুধবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার বিষয়ক রিপোর্টের প্রতিক্রিয়ায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এ কথা বলেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর সারা বিশ্বের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করে মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) রাতে। এতে বাংলাদেশের পরিস্থিতিও তুলে ধরা হয়। বলা হয়, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিচার বহির্ভূত হত্যা ও গুম খুনের সাথে জড়িত থাকলেও জবাবদিহিতার মুখোমুখি হয় না। হয় না সেসবের তদন্তও। উল্টো হয়রানি করা হয় ভুক্তভোগীর পরিবারকে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয় এই মানবাধিকার রিপোর্টে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রিপোর্টটি সম্পর্কে বলেন, ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে কেউ মারা গেলে সে দায় বাংলাদেশকে দেয়া যৌক্তিক নয়। দায়মুক্তি আগে দিলেও এখন বাংলাদেশ দিচ্ছে না বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ায় আলম।

তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া রাজনৈতিক বন্দি নন। তার মামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা ভুল।

Categories
জাতীয়

‘গৎবাঁধা’ মার্কিন প্রতিবেদনে ভুলে ভরা: শাহরিয়ার

বাংলাদেশের মানবাধিকার বিষয়ে মার্কিন প্রতিবেদনকে ‘অতীতের ধারাবাহিকতায় গৎবাঁধা’ মূল্যায়ন হিসেবে বর্ণনা করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, এ প্রতিবেদনের বিভিন্ন মৌলিক বিষয়ে ‘ভুল তথ্য’ আছে।

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিবেদনের বিষয়ে বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি সরকারের এই প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেন। ঢাকার গুলশানে লেইক শোর হোটেলে বুধবার এসডিজি বিষয়ক এক আলোচনা অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভিঢাকার গুলশানে লেইক শোর হোটেলে বুধবার এসডিজি বিষয়ক এক আলোচনা অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। ছবি: আসিফ মাহমুদ অভিপ্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রতিবেদনটি কেবল প্রকাশিত হয়েছে। এ প্রতিবেদনটার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ শুরু করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় বলতে পারি, এ প্রতিবেদন বাংলাদেশে সরকারবিরোধী যেসব প্রপাগান্ডা মেশিন আছে; সেগুলো থেকে প্রাথমিকভাবে তথ্যগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে।”

মঙ্গলবার প্রকাশিত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এই বার্ষিক প্রতিবেদনে ২০২১ সালে অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়েছে।বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও নির্যাতনের’ মত অভিযোগ থাকলেও তারা ‘দায়মুক্তি পেয়ে আসছে’ বলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য।
২০১৮ সালের ডিসেম্বরে একাদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসে, সেই নির্বাচন নিয়েও সমালোচনা করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

শাহরিয়ার আলম বলেন, “দুঃখ এবং পরিতাপের বিষয় হল, অতীতের মত একটা ধারাবাহিকতা এ প্রতিবেদনে আছে। গৎবাঁধা বিষয় আছে। প্রতিবেদনে ফান্ডামেন্টাল অনেক কিছু ভুল আছে।”
নিরাপত্তা বাহিনীর ‘ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতিতে’ সরকারের ‘দায়মুক্তি’ দেওয়ার যে অভিযোগ করা হয়েছে, তাতে ‘মিথ্যাচার রয়েছে’ বলে অভিযোগ করেন প্রতিমন্ত্রী।

“প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমরা নাকি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দুয়েকজন সদস্যের ওপর ব্যবস্থা নিয়েছি। এটা ঠিক নয়। গত তিন বছরে র‌্যাব ও পুলিশের ১৯০ জন সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।এতগুলো লোককে চাকরিচ্যুত করার পরও সেখানে দুয়েকজন কীভাবে বলা হয়?”

বাংলাদেশের ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি ‘সম্মান জানিয়ে’ প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলজিবিটিদের জন্য বাংলাদেশে আইন নেই এবং বাংলাদেশ তাদের প্রয়োজন মেটাতে পারছে না।এটা আমাদের ইসলাম ধর্মের পরিপন্থি। পৃথিবীর এমন একটা মুসলিম দেশ দেখান, যারা এলজিবিটিকে অনুমোদন দেয়।

“যত দেশ বা সংস্থা থেকে চাপ আসুক না কেন, এলজিবিটি প্রশ্নে কোনো ছাড় দেবে না বাংলাদেশ। এটা বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে বিরোধিতা করা হবে।ধর্মের সঙ্গে বিরোধিতা করা হবে।”
প্রতিবেদনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘রাজনৈতিক বন্দি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা ‘সঠিক নয়’ বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার বিষয়টিও এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। তাকে রাজনৈতিক বন্দি বলা হয়েছে। তিনি তো রাজনৈতিক বন্দি নন।

“আমরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যতবার এ নিয়ে কথা বলেছি, সেখানে আমরা সকল প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। তাকে মানবিক কারণে জেল থেকে মুক্তি দিয়ে বাসায় থাকতে দেওয়া হয়েছে।তার বিদেশে যাওয়ার প্রশ্নটাও অমূলক ছিল।”

Categories
জাতীয়

প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত ‘শ্রীলঙ্কা’ হবে না বাংলাদেশ: মুখ্য সচিব

শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশকে তুলনা করাটা দুঃখজনক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেছেন, বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা থেকে অনেক দূরে আছে। বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তুলনা করার চেয়ে লজ্জাকর আর কিছু হতে পারে না। এই সরকার, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়েছেন বিচার বিশ্লেষণ করে।

বাংলাদেশের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী তিন ঘণ্টা সময় ব্যয় করেছেন উল্লেখ করে মুখ্য সচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি প্রতিটি তথ্য-উপাত্ত ঘেঁটে নিশ্চিত হয়েছেন যে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হওয়ার আশঙ্কা নেই।’
দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মুখ্য সচিব এসব কথা বলেন। এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী গণভবনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও অর্থ বিভাগের অফশোর ট্যাক্স অ্যামনেস্টি এবং শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি পর্যালোচনা শীর্ষক উপস্থাপনা অবলোকন করেন।

পদ্মা সেতু, বাজেট বাস্তবায়নসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্য সচিব বলেন, ‘আমরা বারবার প্রমাণ করেছি আমরা পারি। কিন্তু যারা বারবার আশঙ্কার কথা বলে ভুল প্রমাণিত হয়েছেন, তারা কতটা লজ্জিত হবেন।’

প্রায় একযুগ ধরে দেশে হায় হায় রব তৈরির একটি প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যখন আমরা অর্থনীতির দিক থেকে উল্লাসিত, সেই সময় এসব কথা বলে জাতীয় অর্জনটাকে নিয়ে হাসি-তামাশা করি, এর থেকে দুঃখজনক কিছু হতে পারে না।’
এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘বর্তমানে যে পরিস্থিতি আছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে যে মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে, তাতে এমন কোনও চাপ আসবে না যে বাংলাদেশ ভেঙে পড়বে। তারপরও প্রধানমন্ত্রী আমাদের সতর্ক করেছেন, যাতে এটাকে আমরা মাথায় রাখি।’

আন্তর্জাতিক বাজার বা যুদ্ধের কারণে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে কী হবে, সেটার জন্যই প্রধানমন্ত্রী বিস্তারিতভাবে বসেছেন, জেনেছেন এবং আমাদের কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় যেসব কার্যক্রম গ্রহণ করা দরকার, তা গ্রহণ করেছি এবং পর্যায়ক্রমে করবো।’

কিছু ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়লেও সরকারের পদক্ষেপে তা মোটামুটি সহনীয় পর্যায়ে এসেছে বলে তিনি জানান।

আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রমান্বয়ে মূল্যস্ফীতি হলে কিছু পণ্যের দাম বাড়াতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের অ্যাডজাস্ট করার জন্য হয়তো এটা করতে হবে। এক্ষেত্রে কোনও ম্যাজিকও নেই। আবার লুকানোরও কিছু নেই।’

আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়লেও এখন পর্যন্ত সরকার জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির কথা চিন্তা করছে না উল্লেখ করে ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘তবে এই মূল্য বৃদ্ধির কারণে বাজেটের ওপরে চাপ পড়ছে। আর এটাকে কীভাবে অ্যাডজাস্ট করা যায়, সেটা এক্সসারসাইজ করছি।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মুখ্য সচিব বলেন, ‘সব প্রজেক্টে সরকার এমনভাবে অর্থায়ন করেছে, যাতে আমাদের বিপদগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই। আমরা এমন কোনও বড় প্রকল্প নেইনি, যেটাতে ইনকাম সোর্স নেই।’

শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের তৈরি পোশাকের রফতানি বাজার বাংলাদেশ ধরার উদ্যোগ নেবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের তৈরি পোশাক রফতানি বেড়েছে। এর অর্থ আমরা অন্যদের বাজারে ঢুকতে পেরেছি। তবে কারও দুর্দশাকে নিজেদের জন্য পুঁজি করতে চাই না। আমরা নিজেরা সক্ষমতা নিয়ে এগোতে চাই। সক্ষমতা থাকলে অনেকেই এগিয়ে আসবে। আমরা চাই শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তান ভালো থাকুক। আমরাও ভালো থাকি। আর আমাদের লক্ষ্য শ্রীলঙ্কা কিংবা পাকিস্তান নয়। আমাদের লক্ষ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও চীন। তাদের সঙ্গে আমরা কমপিট করছি। ইনশাআল্লাহ, আমরা তা করতে পারবো। দুর্বলের সঙ্গে কমপিট করার কিছু নেই।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে ড. কায়কাউস বলেন, ‘বৈদেশিক ঋণের বিষয়ে বাংলাদেশ কখনও কোনও ট্রাপে পড়েনি। বাংলাদেশ কোনও সিঙ্গেল দেশের ওপর নির্ভর করেনি। আমাদের টোটাল বৈদেশিক ঋণের ৭.৮ ভাগ হচ্ছে চীনের। অর্থাৎ কখনোই আমরা চীনের ওপর নির্ভর করিনি। এখনও করছি না।’

সংবাদ সম্মেলনে অর্থ সচিব রউফ তালুকদার বলেন, ‘বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকার পাশাপাশি সরকারের নীতি, আর্থিক সুবিধা প্রদানে পোশাক রফতানি, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য এই তিনটি খাতে গতি এসেছে। বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থা দেশের অর্থনীতির জন্য এই তিনটি বিষয়টি রেফার করে। আমাদের কৃষি, শিল্প ও সেবা খাত ঘুরে দাঁড়িয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতের জিডিপি অবশ্যই বড়। তবে বর্তমানে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের জিডিপি যোগ করলে বাংলাদেশের জিডিপি তার থেকে বড়। বাংলাদেশের রফতানিও দেশ দুটির রফতানির থেকে বেশি। আর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ওই দেশ দুটির রিজার্ভের যোগফলের দ্বিগুণ। তাই বলবো, যারা শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশকে তুলনা করেন, তারা দেশকে হেয় করেন। কোনোভাবেই এই তুলনার কোনও কারণ নেই।’

ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘আমাদের জিডিপির মাত্র ১২ শতাংশ বৈদেশিক ঋণ রয়েছে এবং শ্রীলঙ্কায় এর পরিমাণ দেশটির জিডিপির প্রায় ৪৮ শতাংশ। শ্রীলঙ্কার বৈদেশিক ঋণের সুদের হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। আর আমাদের সেখানে সুদের হার মাত্র ১ দশমিক ৪ শতাংশ। কাজেই সামষ্টিক অর্থনীতি নিয়ে আমরা শ্রীলঙ্কা কেন, পাকিস্তান বা কারও সঙ্গে তুলনা করতে চাই না। আমরা মনে করি, আমরা নিজস্ব গতিতে চলছি। বাংলাদেশ তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গত ১৩ বছরে দেশ যেভাবে এগিয়ে গেছে, এভাবে আগামীতেও যাবে।’

তিনি বলেন, ‘একটি দেশ যখন ঋণ শোধ করতে পারে না, তখন দেউলিয়া হয়। কিন্তু আমাদের যে ঋণ আছে, তা আগামী ৫ থেকে ১০ বছরও যদি ধরি, তাহলে ঋণ পরিশোধের কোনও একটি কিস্তি ফেল করার কোনও ধরনের আশঙ্কা নেই।’

সরকার যুক্তিসঙ্গতভাবে কর সমন্বয় করে থাকে উল্লেখ করে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, ‘বলা হচ্ছে, রাজস্ব নীতির ভুল পলিসির জন্য শ্রীলঙ্কার আজকের পরিণতি। আমরাও অনেক কিছুকে রাজস্ব পলিসিতে ছাড় দিচ্ছি। করভার লাঘবের চেষ্টা করছি। কিন্তু আমাদের এটা কর ছাড় নয়, সমন্বয় বলতে পারেন। আর এক্ষেত্রে আমরা পজিটিভ ইমপ্যাক্ট পেয়েছি। এখনও কোনও নেগেটিভ ইমপ্যাক্টে পাইনি। আমরা অর্থনীতির ইতিবাচক প্রভাব, কর্মসংস্থান ইত্যাদি বিষয় দেখে করের বোঝা কমাচ্ছি। এতে আমাদের ওভার অল রেভিনিউ বেড়েছে।’

শ্রীল্ঙ্কা ও বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন বলেন, ‘আমরা দ্বিপাক্ষিক, বহুপাক্ষিক ও সরকারি সংস্থা থেকে বৈদেশিক ঋণ নিয়ে থাকি। এই ঋণ ঝুঁকিমুক্ত, সহজ শর্ত এবং নমনীয়। এই ঋণের গ্রেস পিরিয়ড ও পরিশোধকাল দীর্ঘ। শ্রীলঙ্কার বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৩৫ বিলিয়ন ডলার। প্রতি বছর তাদের সাড়ে সাত বিলিয়ন পরিশোধ করতে হয়। আর আমাদের ঋণের পরিমাণ ৫০ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু আমাদের শোধ করতে হয় আড়াই বিলিয়ন ডলার। আমাদের সুদের হার গড়ে এক দশমিক ৪ শতাংশ, পরিশোধ কাল তিন বছর। আমরা ঋণ ব্যবহারও সচেতনভাবে করে থাকি। তুলনামূলকভাবে বেশি নমনীয় ঋণ থেকে আমরা সোশাল প্রজেক্ট করি এবং যে ঋণ তুলনামূলকভাবে কম নমনীয়, সেটা অবকাঠামো বা যেসব প্রজেক্টে রিটার্ন আছে, সেখানে খরচ করি। শ্রীলঙ্কা দ্বিপাক্ষিক, বহুপাক্ষিক, বাণিজ্যিক ও সভরেন বন্ডের জন্য ঋণ পরিশোধ করছে। সভরেন বন্ড ও বাণিজ্যিক ঋণের সুদের হার ৭ শতাংশ এবং ৫ বছরের মধ্যে ফেরত দিতে হয়। আমাদের কোনও সভরেন বন্ড ও বাণিজ্যিক ঋণ নেই।’

আইএমএফ বলেছে, বাংলাদেশের বর্তমানে ও অদূর ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধ নিয়ে কোনও ঝুঁকি নেই বলে এই সচিব উল্লেখ করেন।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মুহম্মদ সলীম উল্লাহ বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতির ইন্ডিকেটরগুলো সবসময়ই ভালো ছিল। কখনোই খারাপ ছিল না। গত ১৩ বছরে এই ইনডিকেটর উন্নয়নের দিকেই গেছে। আমাদের কোভিডের সময়ও উন্নয়নের গতি ধীর হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করে শ্রীলঙ্কার বিষয়টি সামনে আসায় অনেকে আশঙ্কা করছেন—বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হয়ে যাচ্ছে কিনা? কিন্তু শ্রীলঙ্কার অবস্থা জানার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশে এ নিয়ে কেউ কোনও প্রশ্ন উত্থাপন করেননি। করার কোনও যুক্তিও ছিল না, কারণও ছিল না। আমার মনে হয় না, কোনও অর্থনীতিবিদ বা কারও আমাদের চালকগুলো দেখে বলতে পারবেন—আমরা শ্রীলঙ্কার দিকে যাচ্ছি, বা আমরা বিপদের মধ্যে আছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে এই সচিব বলেন, ‘সরকারের আমদানি বন্ধ হবে না, তবে এক্ষেত্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলোই আমরা অগ্রাধিকার দেবো। অযথা অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আমদানি কম করতে হবে। সেই বিষয়ে আমাদের সতর্ক দৃষ্টি থাকতে হবে।’

Categories
জাতীয়

পাকিস্তান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে করছে ঢাকা: পররাষ্ট্র সচিব

পাকিস্তানের টালমাটাল রাজনৈতিক পরিস্থিতি গভীর পর্যবেক্ষণে রেখেছে বাংলাদেশ-এমনটাই জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। রোববার নিজ দপ্তরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে সচিব বলেন, এটি একান্তই পাকিস্তানের আভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এ নিয়ে আমার কোনও মন্তব্য নেই, তবে আমরা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি।’

উল্লেখ্য, পাকিস্তানের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে অনাস্থা ভোটে ইমরান খান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রিত্ব হারিয়েছেন। সংসদ বহাল থাকায় নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিরোধী জোট থেকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন এবং সোমবার তার শপথ অনুষ্ঠান হতে পারে।

Categories
জাতীয়

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন করতে বলছে যুক্তরাষ্ট্র

মানবাধিকার, শ্রম স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন এবং বাংলাদেশের সাথে অংশীদারিত্বের প্রতীক্ষায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত পিটার হাস সাক্ষাৎ করার পর দেশটির তরফে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।রবিবার ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে লেখা হয়েছেঃ

“রাষ্ট্রদূত হাস পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র বিশেষত, মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার গুরুত্ব বিষয়ে আলোচনার জন্য আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, এমপির সাথে সাক্ষাৎ করে আনন্দিত। সাইবার অপরাধ রোধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করা হলেও কিছু ক্ষেত্রে এ আইনের অপব্যবহার ঘটেছে বলে স্বীকার করেন আইনমন্ত্রী। তারা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংস্কারের গুরুত্ব বিষয়ে আলোচনা করেন যাতে এর আওতায় বাক স্বাধীনতা বা সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব না করেই সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।

আমরা মানবাধিকার, শ্রম স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন এবং বাংলাদেশের সাথে অংশীদারিত্বের প্রতীক্ষায় আছি।”

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে রাষ্ট্রদূত হাস আইনমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনমন্ত্রীও জানান, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কিছু অপব্যবহার হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেছেন।

তবে মন্ত্রী এটাও বলেন যে, রাষ্ট্রদূতকে জানানো হয়েছে, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট কখনোই বাকস্বাধীনতা বা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করেনি।

এর ফলে গণমাধ্যম মুক্তভাবে তাদের সংবাদ পরিবেশন করতে পারছে।

Categories
জাতীয়

দেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে পাকিস্তানকে অনুসরণ করুন

বাংলাদেশে জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে হলে পাকিস্তানের পথ অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক সকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে যদি শক্তিশালি ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে চান, তাহলে পাকিস্তানকে অনুসরণ করুন। পাকিস্তানে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার চালু করা হয়েছে। সেখানকার আদালত কিন্তু বলেনি, যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার করা ঠিক হবে না।

গতকাল শনিবার এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র আয়োজনে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা নিয়ে এক ছায়া সংসদে তিনি এ পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করা হয় একজন সাবেক প্রধান বিচারপতিকে এবং রিটার্নিং অফিসার করা হয় জেলা জজদেরকে। জেলা জজরা রাজনীতির সাথে কম সম্পৃক্ত থাকেন জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনী ব্যবস্থায় যদি রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা কমাতে চান, তাহলে জেলা জজদেরকে রিটানিং কর্মকর্তা করুন। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার চেয়ে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা আরো বেশি বিতর্কিত।

ড. আকবর আলি খান আরো বলেন, আইন অনুযায়ী নির্বাহী বিভাগের কর্মকর্তারা নির্বাচন পরিচালনায় সম্পৃক্ত থাকেন। রাজনৈতিক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে নির্বাহী বিভাগ ক্ষমতাসীনদের নির্দেশনার বাইরে যেতে পারেন না, এমনকি তারা ভবিষ্যত বেনিফিট নেয়ার চিন্তা করে। তাই বাংলাদেশে বর্তমান অবস্থায় শুধু নির্বাচন কমিশনের একার পক্ষে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা সম্ভব নয়।

নির্বাচনে বিদেশি চাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য বিদেশীদের পরোক্ষ চাপ থাকবে। তবে বিদেশীদের চাপ সরকার কিভাবে নিবে তা বলা কঠিন। বাংলাদেশের বর্তমান যে অবস্থা তাতে শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশন দ্বারা সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব না।

ড. আকবর আলি খান বলেন, বাংলাদেশে শতভাগের অধিক ভোট পেয়েও এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার নজির রয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় নির্বাচন বাতিল করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের থাকলেও তা প্রয়োগ করা হয়নি। বরং সরকারকে খুশি রাখতে জালিয়াতির সাথে সম্পৃক্তদের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।
বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে সাহসী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমান অবস্থায় সরকারি দল না চাইলে নির্বাচন ব্যবস্থার পরিবর্তন সহজ নয়। তবে দীর্ঘস্থায়ী গণআন্দোলনের মাধ্যমে পরিবর্তন আনা সম্ভব, সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমঝোতা জরুরি। নির্বাচনে হস্তেক্ষেপ করলে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘ছায়া সংসদে’ নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে ১০ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সুপারিশগুলো হচ্ছে ১. সর্বশেষ দুই নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতার বিভিন্ন দিক চিহ্নিত করে আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করার জন্য রোডম্যাপ তৈরি করা;

২. সকল প্রার্থীর জন্য সমতল ক্ষেত্র তৈরি করা; ৩. নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন নির্মোহ পেশাজীবীদের সাথে আলোচনার প্রস্তাব প্রকাশ করা; ৪. জেলা প্রশাসকদের বদলে ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব দেয়া; ৫. আগের নির্বাচন ব্যবস্থার কোন কর্মকর্তা আইন ভঙ্গ করে নির্বাচনী অপরাধ করে থাকলে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া; ৬. নির্বাচনের পূর্বে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মতবিরোধ দূর করা;

৭. অকারণে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি বন্ধ করা; ৮. যেসব আইনের দ্বারা নির্বাচনকালীন সময়ে গণমাধ্যম বাঁধা সম্মুখীন হতে পারে সাংবাদিকদের জন্য সে আইন শিথিল করা; ৯. নারী ও সংখ্যালঘু ভোটারদের ভোট পূর্ববর্তী ও পরবর্তী প্রতিহিংসা রোধের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং ১০. গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে বাধা তৈরি হলে প্রয়োজনে ইসিকে পদত্যাগের সৎ সাহস রাখা।

Categories
জাতীয়

এক বছরে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ বেড়েছে এক লাখ কোটি টাকার বেশি

সরকারের বাজেট ঘাটতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেয়া ঋণের পরিমাণ বেড়েই চলছে। গত ডিসেম্বর শেষে এ উৎস থেকে নেয়া সরকারের ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে শুধু ২০২১ পঞ্জিকা বর্ষেই অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি। ব্যাংক খাত থেকে ট্রেজারি বিল-বন্ড বিক্রির মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের পাশাপাশি সঞ্চয়পত্র বিক্রিসহ অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করে জনগণের কাছ থেকে এ ঋণ নিয়েছে সরকার।

প্রতি বছরই সরকারের বাজেট বড় হচ্ছে। কিন্তু বাজেটের আকারের সঙ্গে সংগতি রেখে রাজস্ব আয় বাড়াতে পারেনি সরকার। ফলে বাজেটের আকার বড় হওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভারী হচ্ছে ঘাটতি বাজেটের পরিমাণ। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও এ বাজেটের ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকাই রাখা হয়েছে ঘাটতি বাজেটের খাতায়। দেশের জিডিপির ৬ দশমিক ২ শতাংশই বর্তমানে ঘাটতি বাজেট। এ ঘাটতি বাজেট পূরণের জন্য বিদেশী উৎসের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকেও ঋণ নেয় সরকার। এর মধ্যে জনগণের কাছ থেকে সরাসরি ঋণ নেয়া হয় সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে। আর পরোক্ষ ঋণ নেয়া হয় ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ট্রেজারি বিল-বন্ড বিক্রির মাধ্যমে।

এক দশক আগে ২০১০ সালে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের নেয়া মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। পাঁচ বছর পর ২০১৫ সালে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ২ লাখ ২১ হাজার ৯২৩ কোটি টাকায়। ২০২০ সাল শেষে তা বেড়ে হয় ৫ লাখ ২ হাজার ৫৬৬ কোটি টাকা। গত বছর এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৬ লাখ ১৫ হাজার ৭১৮ কোটি টাকায়। এর মধ্যে সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে সরকারের নেয়া প্রত্যক্ষ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৪১৮ কোটি টাকা। আর ব্যাংকসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে ট্রেজারি বিল-বন্ড বিক্রি করে সরকার ২ লাখ ৬২ হাজার কোটি টাকারও বেশি ঋণ নিয়েছে। সব মিলিয়ে গত এক বছরে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের নেয়া ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ১৫২ কোটি টাকা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজস্ব আহরণে ব্যর্থতার কারণেই সরকারের ঘাটতি বাজেটের আকার প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ঘাটতি বাজেটের আকার যত বড় হবে সরকারের ঋণও তত বাড়বে। এ মুহূর্তে বাজেটের অন্যতম বড় ব্যয়ের খাত হয়ে উঠেছে ঋণের সুদ পরিশোধ। বিদ্যমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে সরকারের ঋণের বোঝা বাড়তেই থাকবে। দিনশেষে জনগণকেই সরকারের এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুরও মনে করেন, রাজস্ব আদায়ে সরকারের ব্যর্থতার কারণেই প্রতি বছর ঘাটতি বাজেটের পরিমাণ বাড়ছে। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, বিশ্বের কোনো দেশই এত কম রাজস্ব আয় দিয়ে চলে না। বাংলাদেশের রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। এটি বাড়ানো সম্ভব না হলে অভ্যন্তরীণ ও বিদেশী উৎস থেকে সরকারের ঋণ বাড়বেই। রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত অন্তত ২০-২২ শতাংশে উন্নীত করতে না পারলে সংকটের কোনো সমাধান হবে না।

তবে সরকারের ঋণ-জিডিপি অনুপাত এখনো অনেক বেশি হয়ে যায়নি উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, জিডিপির আকার বিবেচনায় নিলে এখনো সরকারের ঋণ নেয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সমস্যা হলো জিডিপির অনুপাতে রাজস্ব আহরণের হার না বেড়ে উল্টো প্রতি বছরই কমছে। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে বাজেটের আকার বড় করে কোনো লাভ হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০১০ সালের ডিসেম্বর শেষে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের মোট ঋণ ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এ ঋণের মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে ছিল মাত্র ৫২ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকার ঋণ। বাকি ৬৩ হাজার ৩৫১ কোটি টাকা ছিল সঞ্চয়পত্রসহ অন্যান্য খাত থেকে। ২০২১ সাল শেষে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের নেয়া ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ১৫ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাত থেকে নেয়া সরকারের ঋণের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ২০ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা। গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রসহ অন্যান্য খাত থেকে সরকারের নেয়া ঋণের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৮০১ কোটি টাকা।

অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেয়া ঋণের পরিমাণ বাড়ায় এ বাবদ সরকারের সুদ ব্যয়ও বাড়ছে। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে সুদ পরিশোধ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৮ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরে এ খাতে ৬৩ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা ব্যয় করেছিল সরকার। চলতি অর্থবছরের জন্য ঘোষিত ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। ঘাটতির এ অর্থসংস্থানে বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ১ হাজার ২২৮ কোটি টাকা নেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। বাকি ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা ঋণ নেবে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে। এর মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য ব্যাংক-বহির্ভূত খাত থেকে ৩৭ হাজার ১ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণের লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। তবে রাজস্ব আহরণে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ায় অর্থবছর শেষে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ আরো বড় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সরকার ঋণ করতেই পারে। কিন্তু ঋণটি সাশ্রয়ী কিনা সেটি দেখা দরকার। যে উৎস থেকে কম সুদে ঋণ পাওয়া যায়, সেখান থেকে ঋণ নিতে হবে। আবার সরকারের নেয়া ঋণ কোন খাতে ব্যয় হচ্ছে সেটিও দেখতে হবে। ঋণের ব্যবহার যথাযথ না হলে সেটি জনগণের দায় বাড়ানো ছাড়া অন্য কোনো সুফল বয়ে আনে না।

মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, আকারের দিক থেকে সরকারের বাজেট অনেক বড় হয়েছে। কিন্তু সরকারের রাজস্ব আয়ের বড় একটি অংশ ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়ে যাচ্ছে। সরকারের কর-জিডিপি অনুপাত ৯ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। নেপাল-ভুটানের মতো দেশেও কর-জিডিপি অনুপাত বাংলাদেশের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বণিক বার্তাকে বলেন, আকার বড় হওয়া থেকে শুরু করে অর্থনীতির অনেক সূচকেই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তবে এটি ঠিক, কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় আমরা শুল্ক ও কর আদায় করতে পারছি না। এ কারণে বাজেটের ঘাটতি বড় হচ্ছে। যেকোনো ঋণই দায় তৈরি করে। সুদসহ এ ঋণ আমাদেরই পরিশোধ করতে হবে। কোনো দেশেই ঘাটতি বাজেট অনির্দিষ্টকাল চলতে পারে না। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে সংকট গভীর হবে।

Categories
জাতীয়

ব্যাংক থেকে হরদম ঋণ নিচ্ছে বাংলাদেশের সরকার – কেন?

বাংলাদেশ সরকার চলতি অর্থবছরের পাঁচ মাস বাকি থাকতেই ব্যাংক থেকে টার্গেটের তুলনায় অনেকে বেশি ঋণ নেয়ায় বেসরকারি বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাবের আশংকা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত সাত মাসেই সরকার টার্গেটের চেয়ে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা বেশি ঋণ নিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজস্ব আদায় কম হওয়ায় অর্থসংকট কাটাতে এবছর ব্যাংকের উপর সরকারের নির্ভরশীলতা আরও বাড়তে পারে।

কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থবছরের বাকি কয়েকমাসে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া কমানোর চেষ্টা তাদের রয়েছে।
চলতি অর্থবছরে সরকার ব্যাংক থেকে প্রায় সাড়ে ৪৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিতে চেয়েছিল।

কিন্তু এখন পর্যন্ত সাত মাসেই সেই টার্গেট ছাড়িয়ে সরকার প্রায় সাড়ে ৫৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।অর্থনীতিবিদদের অনেকে পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন। তারা বলছেন, সরকার অর্থসংকটের কারণে ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

কিন্তু কেন এই অর্থসংকট?

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির মোস্তাফিজুর রহমান বলছিলেন, লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায় অনেক কম হওয়ার কারণেই সরকারকে এবার বেশি মাত্রায় ঋণ নিতে হচ্ছে।

“রাজস্ব আহরণ টার্গেটের থেকে প্রথম ছয়মাসে অনেক কম হয়েছে। এরফলে অর্থের জন্য সরকারকে অন্য সূত্র খুঁজতে হচ্ছে। এখন অন্য সূত্রের মধ্যে সঞ্চয়পত্র যেটা ছিল, সেখান থেকে গত বছরে টার্গেটের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ নেয়া হয়েছিল।এরপর সরকার সঞ্চয় পত্র নিয়ে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিল। সেজন্য মানুষ এবার সঞ্চয়পত্র কম কিনেছে। সুতরাং সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে অর্থ পাচ্ছে না।”

মি: রহমান আরও বলেছেন, “শেয়ার বাজারেও অনুকুল পরিস্থিতি নাই। ষেয়ার বাজারেও সরকার টাকা তোলার জন্য যেতে পারছে না। আবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা ছাপিয়ে ঘাটতি মেটাতে গেলে তাতে মূল্যস্ফীতি হবে। এরকম একটা অবস্থায় ব্যাংকের ওপর তারা ভর করেছে।”

চলতি বছরে সরকারের ঋণ নির্ভরতা কমার কোনো লক্ষণ দেখছেন না বিশ্লেষকরা।
ছবির ক্যাপশান,
চলতি বছরে সরকারের ঋণ নির্ভরতা কমার কোনো লক্ষণ দেখছেন না বিশ্লেষকরা।

সরকারের ঋণ বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব কি হবে?

ব্যাংকের ওপর সরকারের এই ভর করার প্রেক্ষাপটে অর্থনীতিবিদরা বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে নানা আশংকার কথা বলছেন।

তারা মনে করেন, সরকারের এই ঋণ নেয়ার মাত্রা অব্যাহত থাকলে বড় সংকটে পড়বে ব্যক্তি বা বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ। কারণ ব্যাংকগুলো ব্যক্তি পর্যায়ে ঋণ দেয়া কমিয়ে দেবে।

সরকারি গবেষণা সংস্থা বিআইডিএস এর নাজনীন আহমেদ বলছিলেন, সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

“রাজস্ব আদায় বছরের দ্বিতীয় ধাপে কিছুটা বাড়ে। তবে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পুরো অর্জিত হবে, এটা কেউই আসলে এখন মনে করছেন না। সেই বিচারে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেয়া ইতিমধ্যে মাত্রা ছাড়িয়েছে। সেটা হয়তো আরও বাড়বে।”

তিনি আরও বলেছেন, “রাজস্ব ব্যয়তো কমানো যাবে না। বেতন ভাতাতো দিতে হবে। তখন কমানোর জায়গা হবে উন্নয়ন বাজেটের ব্যয়।”

সরকার কি বলছে

সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান পরিস্থিতিকে অর্থসংকট হিসেবে দেখতে রাজি নন।

“সংকট কিছু আমি দেখছি না। এটাতো কমবেশি হয়। আপডাউন হয়।”

কিন্তু সরকারের ব্যাংক ঋণ নেয়ার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে রাজস্ব আদায় কম হওয়ার বিষয়কে যে কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে, সেটা স্বীকার করেছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী মি: মান্নান।

“এটা স্বীকার্য অবশ্য যে টার্গেটের চেয়ে রাজস্ব আদায় কম হয়েছে। এর কারণও আছে, যেহেতু এবার টার্গেটটা উচ্চমাত্রার ছিল। কারণ আশা ছিল এবার সরকার নতুন যে ভ্যাট-কর বাস্তবায়ন করলো, এরফলে একটা বড় অংকের টাকা আশা করা হয়েছিলো। সেটা আদায়ের ব্যাপারে হয়তো সকল মেশিনারি পুরোপুরি কাজ করে নাই।”

অর্থ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, অর্থবছরের দ্বিতীয় ধাপে অর্থ্যাৎ বাকি কয়েকমাসে রাজস্ব আয় বাড়ানোর তৎপরতা জোরদার করা হচ্ছে, যাতে ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার মাত্রা কমিয়ে আনা যায়।

সেই আশা কতটা পূরণ হবে অর্থনীতিবিদদের অনেকেরই তাতে সন্দেহ রয়েছে।

Categories
জাতীয়

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ‘পদ্মা সেতুর উদ্বোধন পেছাচ্ছে’

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইউরোপ থেকে কিছু মালামাল আসতে দেরি হওয়ায় পদ্মা সেতুর উদ্বোধনেও দেরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

আজ বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।তিনি বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে মার্চ মাসের মধ্যে যেসব মালামাল আসার কথা ছিল সেগুলো আসতে পারেনি। তাই পদ্মা সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার জুন মাসে যে সময়সীমা ছিল তা কিছুটা দেরি হতে পারে।’
মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, ‘এ জন্যই প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ২০২২ সালের শেষ নাগাদ যান চলাচলের জন্য খুলে দিতে দ্রুত কাজ করা হচ্ছে।’

এর আগে চলতি বছরের শেষ নাগাদ পদ্মা সেতু যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য শহীদুজ্জমান সরকারের টেবিলে উত্থাপিত এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

পরে সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি খোলাসা করেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

Categories
জাতীয়

বাংলাদেশের পরিস্থিতি শ্রীলঙ্কার মতো হবে না : শেখ হাসিনা

‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি অনেক মজবুত, আমাদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি শ্রীলঙ্কার মতো হবে না’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ ঋণ পরিশোধে কখনো ডিফল্টার (খেলাপি) হয়নি, হবেও না।আজ বুধবার (৬ এপ্রিল) একাদশ জাতীয় সংসদের ১৭তম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে এ কথা বলেন তিনি।

এর আগে বিরোধী দলের উপনেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের তার সমাপনী বক্তব্যে শ্রীলঙ্কার সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শ্রীলঙ্কার বিষয়টা দেখে।

এটা বাস্তব। তবে একটা কথা তাকে বলতে চাই, আমরা সরকার গঠন করার পর থেকে এই পর্যন্ত আমাদের উন্নয়নের ক্ষেত্রে যত ঋণ নিয়েছি, ঋণটা আমরা সব সময় সময়মতো পরিশোধ করে থাকি। ‘
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটা দেশ যে দেশটি কোনো দিন ঋণ পরিশোধে ডিফল্টার হয় নাই, হবেও না। সেদিক থেকেও আমাদের অর্থনৈতিক ভিত্তি অনেক মজবুত। সেটা আমি বলে রাখতে চাই। আমরা অত্যন্ত সতর্ক। ‘

তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলের নেতা, বিএনপি, জাতীয় পার্টি এরা যখন ক্ষমতায় ছিল, বিদেশ থেকে যখন জিনিস কিনত তখন ১০ টাকার জিনিস ২০ টাকা দিয়ে কিনে বাকি ১০ টাকা পকেটে ঢোকাত, কমিশন খেত। কোনোটার দাম যদি ১৩০ মিলিয়ন হতো, সেটাকে ১৫০ করে ২০ মিলিয়ন পকেটে নিত। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সেটা হয় না, বরং আমরা দাম কমিয়ে আনি। দাম কমিয়ে আমরা ক্রয় করি। ‘
‘উন্নয়নের কারণে ভোগান্তি হচ্ছে’ বিরোধী নেতার এমন অভিযোগে তিনি বলেন, ‘দেশের উন্নয়নটা কার জন্য? মেট্রো রেল কার জন্য? মেট্রো রেল তো এ দেশের সাধারণ মানুষের জন্যই। মানুষ যাতে সরাসরি চলাচল করতে পারে তার জন্য। এখন হয়তো কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু মেট্রো রেল হয়ে যাবার পর উত্তরা থেকে যদি একেবারে সেই বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত যায়। অল্প সময়ের মধ্যে ৬০ হাজার লোক যাতায়াত করতে পারবে। গাড়ি নেওয়া লাগবে না। ‘

সংবিধানের ৭০ ধারা নিয়ে জি এম কাদেরের বক্তব্যের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য হলো এমন একটি দলের কাছ থেকে সংবিধানের বিষয় শুনতে হচ্ছে, যে দলটি ক্ষমতায় এসেছিল সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতা দলের মধ্য দিয়ে। মার্শল ল জারি করে। মার্শাল লর মাধ্যমে যাদের জন্ম, যার নেতা ক্ষমতাই দখল করেছিলেন তখনকার রাষ্ট্রপতিকে বিদায় দিয়ে। সেনাপ্রধান হয়ে গেলেন রাষ্ট্রপ্রধান। তার কাছ থেকে আজকে আমাদের সংবিধান শিখতে হচ্ছে। ‘

দ্রব্যমূল্য নিয়ে তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে সারা বিশ্বব্যাপী জিনিসের দাম যেমন বেড়েছে তাতে রড, সিমেন্ট প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়েছে। শুধু আমাদের দেশে না, সব দেশেই। এখন আবার নতুন করে প্রত্যেকটি জিনিসের দাম বেড়েছে। শুধু এখানেই নয়, শুনলাম আমেরিকায় অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। একটু আন্তর্জাতিক নিউজগুলো দেখলে এটা দেখতে পাবেন। সেখানে কী ভোগান্তি, এক ডলারের তেল সেখানে চার ডলার হয়ে যাচ্ছে, আমেরিকার মতো জায়গায়। আমাদের এখানে তো জিনিসের দামে তার ধাক্কা আসবেই। ‘

যানজট প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান বলেন, ‘মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বেড়েছে, গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে। অতিরিক্ত গাড়ি এখন রাস্তায় চলে। সবাই ট্রাফিক রুল মেনে চললে আর গাড়ি কম বের করলে যানজট তো থাকে না। গাড়িতেও চড়বেন, একেকটি পরিবার দুই-তিনটি গাড়ি বের করবেন, আবার ট্রাফিক জ্যাম হলে গালি দেবেন, এটা তো চলবে না। ‘