Categories
আন্তর্জাতিক

ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে শাহবাজের সাথে জারদারির তীব্র বিরোধ

ইমরান খানকে সরিয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর এবার তীব্র ক্ষমতার দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন সরকার। আর এর ফলে গতকাল মঙ্গলবার মন্ত্রিসভা গঠন করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হতে পারেনি।
ক্ষমতাসীন জোটের সূত্রগুলো জানায়, পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) হলো মুসলিম লিগ (নওয়াজ)-এর পর জোটের সবচেয়ে বড় শরিক। তারা নতুন ব্যবস্থায় অতি গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু পদ লাভের ব্যাপারে অনড় রয়েছে। বিষয়টি সোমবার পিপিপির একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে অবগতও করেছে।

সূত্রটি জানিয়েছে, পিপিপির কো-চেয়ারম্যান আসিফ আলী জারদারি নতুন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি, সিনেট চেয়ারম্যান, জাতীয় পরিষদের স্পিকার ও সিনেট নেতার পদগুলো দাবি করেছেন।
সূত্রটি জানায়, আসিফ আলি জারদারি রাষ্ট্রপতি হতে কোনো আগ্রহ দেখাননি। বরং তিনি আগামী নির্বাচনে তার ছেলে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিকে সহায়তা করতে চান। এ কারণে তিনি পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি পদে তার দলের ফারিয়াল তালপুরকে চাচ্ছেন। আর দলের ইউসুফ রাজা গিলানিকে সিনেট চেয়ারম্যান, সিনেট হাউস নেতা হিসেবে শেরি রহমান এবং জাতীয় পরিষদের স্পিকার হিসেবে নাভিদ কামার বা রাজা পারভেজকে চাচ্ছেন তারা।

সূত্র জানায়, পিপিপি জানিয়ে দিয়েছে যে তাদের এই দাবিগুলো মানা হলেই কেবল মন্ত্রিত্ব গ্রহণ করবে বা মন্ত্রিসভার অংশ হবে।সূত্রটি জানায়, পিপিপি অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি পানি ও বিদ্যুৎ, আইন ও প্রবাসী পাকিস্তান বিষয়ক মন্ত্র্রিত্ব চায়।

তবে পিপিপি জানিয়ে দিয়েছে, তাদের দাবি মানা না হলেও তারা নতুন সরকারকে পূর্ণভাবে সমর্থন করবে। তারা নতুন সরকারের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থন অব্যাহত রাখবে।
সূত্র জানিয়েছে, শাহবাজ বিষয়টি নিয়ে তার বড় ভাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সাথে কথা বলেছেন।

এদিকে শাহবাজ শরিফের অধীনে বিলাওয়াল ভুট্টোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়া নিয়েও পিপিপি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে।

কেউ কেউ মনে করছে, বিলাওয়াল পররাষ্ট্রমন্ত্রী হলে ভবিষ্যতে তার জন্য কল্যাণকর হবে। আন্তর্জাতিক রাজনীতি বোঝা সহজ হবে। আবার কেউ কেউ বলছেন, শাহবাজের অধীনে তিনি মন্ত্রী হলে তার মর্যাদার অবনতি হবে।
এদিকে একটি সূত্র জানায়, বর্তমান রাষ্ট্রপতি আরিফ আলভি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে তার বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনা হতে পারে।
একটি সূত্র রাষ্ট্রপতি পদটি জেইউআই-এফ প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমানকে দিতে বলছে।

Categories
আন্তর্জাতিক

ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পাকিস্তানে পড়ার ঘটনায় ব্যাখ্যা চেয়েছে ফিলিপাইন

গত ৯ মার্চ নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের সময় প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনাবশত ভারতীয় একটি মিসাইল উৎক্ষেপণের ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানের আকাশসীমায় ঢুকে পড়ার পর দেশটির সেনাবাহিনী তা ধ্বংস করে। এ ঘটনার কয়েকদিন পরই এ বিষয়ে ভারতের কাছে জানতে চায় ফিলিপাইন।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, ফিলিপাইন ব্যাখ্যা চেয়েছে কারণ ভারতের তৈরি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র কেনার জন্য ভারতের সাথে তাদের চুক্তি রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিপাইনে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত শম্ভু এস কুমারানকে এ জন্য তলব করা হয়েছিল। ভারতীয় রাষ্ট্রদূত ফিলিপাইনকে জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সাথে কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যা ছিল না এবং এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তিনি আরও বলেন, তদন্ত শেষ হলে ফিলিপাইনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তথ্য জানানো হবে।

পাকিস্তানের আকাশসীমায় দুর্ঘটনাক্রমে ঢুকে পড়া ক্ষেপণাস্ত্রটিকে ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র বলে দাবি করা হচ্ছে। ঘটনার বিষয়ে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় যে বিবৃতি দিয়েছিল সেখানে কোথাও ব্রহ্মোস মিসাইলের উল্লেখ করা হয়নি। আর এ বিষয়টি নিয়েই চিন্তিত ফিলিপাইন।
চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র কেনার জন্য ভারতের সাথে চুক্তি করে ফিলিপাইন। এই ক্ষেপণাস্ত্র ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) এবং রাশিয়ার এনপিও মেশিনেস্ট্রোনিয়া যৌথভাবে তৈরি করেছে।

ফিলিপাইনের সাথে চুক্তিটি ৩৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের, যা ভারতের জন্য একটি বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি।
পাকিস্তানের বিমানবাহিনী বলছে, মিসাইলটি পতনের আগে পাকিস্তানের আকাশসীমায় শব্দের গতির তিনগুণ গতিতে ১২ হাজার মিটার (৪০ হাজার ফিট) উচ্চতা দিয়ে ১২৪ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

Categories
আন্তর্জাতিক

লন্ডনে নওয়াজের বাড়ির সামনে মুখোমুখি ইমরান খানের সমর্থকরা

দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে বৃটেনে থাকা পাকিস্তানিদের মধ্যেও। সেখানেও মুখোমুখি হয়েছেন পাকিস্তান মুসলিম লিগ নওয়াজ (পিএমএল-এন) এবং পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফের (পিটিআই) সমর্থকরা। রোববার লন্ডনে পিএমএল-এন নেতা নওয়াজ শরীফের বাসভবনের সামনে দুই পক্ষ মুখোমুখি হয়। এসময় একপক্ষ উৎসবে মেতে ওঠে এবং অন্য পক্ষ প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইমরান খানকে সরিয়ে দেয়ার প্রতিবাদ জানায়। এ খবর দিয়েছে ডন।

খবরে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এ আশঙ্কা থেকে সেখানে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তারা দুই দলের মাঝে শিকলের মত দাঁড়িয়ে থাকায় কোনো সহিংসতা সৃষ্টি হতে পারেনি। তবে উভয় পক্ষ দুই পাস থেকে পরস্পরবিরোধী স্লোগান দিতে থাকে। ঘটনার শুরু হয় রোববার সকালে।

অল্প কিছু নওয়াজ সমর্থক তার বাড়ির সামনে জড়ো হন উৎসব করতে। তারা দুজনকে ভাড়া করে আনেন ঢোল বাজাতে। ঢোলের তালে তালে সমর্থকরা সেখানে নাচ গান শুরু করেন এবং নওয়াজ শরীফের পক্ষে স্লোগান দিতে থাকেন। ‘আরও জোরে স্লোগান দাও যাতে বাড়ির মধ্যে মিয়া সাব শুনতে পারে’ বলে উৎসব করেন তারা। তারা নওয়াজকে বাঘ বলেও আখ্যায়িত করেন। তবে এই উৎসবে নওয়াজ পরিবারের কাউকে যোগ দিতে দেখা যায়নি।

এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে পিটিআই’র শত শত সমর্থক মিছিল নিয়ে আসেন। তারা ইমরান খানকে সরিয়ে দেয়ার প্রতিবাদ জানান। বৃটেনে ইমরান খানের মুখপাত্র সাহিবজাদা জাহাঙ্গির সমর্থকদের নওয়াজের বাড়ির কাছে জড়ো হওয়ার আহবান জানিয়ে একটি ভিডিও বার্তা দেন। পিটিআই সমর্থকরা পাকিস্তানের সরকার পরিবর্তনের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলে সাধারণ নির্বাচনের দাবি তোলেন। তারা ইমরানকে সরিয়ে দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ি বলে অভিযোগ তোলেন। কেউ কেউ পাকিস্তান সেনাবাহিনীকেও এ জন্য দায়ি করেন।

পিটিআই নেতাদের অনেককেই এসময় কাঁদতে দেখা যায়। কেউ কেউ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা স্লোগান দিয়ে বলেন, পাকিস্তানের এই আমদানি করা সরকার আমরা মানি না। পাকিস্তানি হিসেবে যে গর্ব আমরা অনুভব করি তা ইমরান একাই সৃষ্টি করেছেন। আবার একদল স্লোগান দিয়ে বলেন, নো ইমরান, নো রেমিটেন্স।

Categories
আন্তর্জাতিক

প্রধানমন্ত্রী হতেই একইদিনে অর্থপাচার মামলায় জামিন পেলেন শাহবাজ শরীফ ও ছেলে হামজা শরীফ

অর্থ পাচার মামলায় পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) প্রেসিডেন্ট শাহবাজ শরীফ এবং তার ছেলে হামজা শরীফের জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে দেশটির একটি বিশেষ আদালত। সোমবার এক রায়ে বিচারক ইজাজ হাসান আওয়ান তাদের জামিন বৃদ্ধির আবেদন মঞ্জুর করেন। এ খবর দিয়েছে এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

খবরে জানানো হয়, পিএমএল-এন প্রেসিডেন্টের কাউন্সেল আমজাদ পারভেজ জামিন বৃদ্ধির আবেদন জানিয়ে আদালতে পিটিশন দায়ের করেন। এতে তিনি বলেন, শাহজাদ শরীফ এবং তার ছেলে ওমরা করতে যাবেন তাই তাদের জামিন অব্যাহত থাকা প্রয়োজন। জামিন মঞ্জুরের পর পরবর্তী শুনানিতে অভিযুক্তদের উপস্থিত থাকার আদেশ দেন বিচারপতি। আগামি ২৭শে এপ্রিল পর্যন্ত এই মামলা মুলতবী ঘোষণা করেছে আদালত।
এদিকে আজই পাকিস্তানের ২৩তম প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন শাহবাজ শরীফ। ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে প্রথম জামিন পেয়েছিলেন তিনি।

২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে তাকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ব্যুরো। লাহোর হাই কোর্ট সেসময় তার জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল।

Categories
আন্তর্জাতিক

ইমরান খানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার আবেদনকারীকে ১ লক্ষ রুপি জরিমানা

সদ্য ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দাখিল করা রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে পাকিস্তানের একটি শীর্ষ আদালত। জানিয়ে দেয়া হয়েছে, এই অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়। ভারতের সরকারি বার্তা সংস্থা পিটিআই বলেছে, আজ সোমবার ইসলামাবাদ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি আতহার মিনাল্লাহ এই রায় দিয়েছেন। একই সঙ্গে মামলার বাদি মৌলভী ইকবাল হায়দারকে এক লাখ রুপি জরিমানা করেছেন তিনি। একই সঙ্গে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী এবং আরও সাবেক মন্ত্রীদের নাম নো-ফ্লাই লিস্টে রাখার আবেদনও নাকচ করেছেন আদালত। এক্সপ্রেস ট্রিবিউনকে উদ্ধৃত করে এ রিপোর্ট দিয়েছে পিটিআই।

ওদিকে আইনি দিক থেকে মারাত্মক উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনৈতিক বহুল বিতর্কিত চিঠিটি পাঠিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি উমর আতা বান্দিয়ালের কাছে। তিনি বলেছেন, এই চিঠির মাধ্যমে পাকিস্তানকে হুমকি দেয়া হয়েছে।

সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এক্সপ্রেস ট্রিবিউন বলেছে, প্রধান বিচারপতি ওই চিঠি পড়ে শোনাবেন বলে মনে হয় না।

Categories
আন্তর্জাতিক

মস্কোর দিকে ঝুঁকেছে মধ্যপ্রাচ্য

কয়েক দশক ধরে পশ্চিমারা আরব উপদ্বীপের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোকে উন্নত অস্ত্র বিক্রি করে তাদের গ্যাস ও তেল কেনার সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু ইউরোপীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে যখন ইউক্রেন-রাশিয়া সঙ্ঘাত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বিশে^ মার্কিন শাসন ব্যবস্থাকে হুমকি মুখে ফেলেছে, তখন রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমারা জাতিসংঘে তাদের মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রগুলোকে দলে টানতে বিফল হয়েছে। বৃহস্পতিবার ইউক্রেনে কথিত যুদ্ধাপরাধের ইস্যুতে রাশিয়াকে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে অপসারণের ভোটে উপসাগরীয় সব রাষ্ট্র বিরত ছিল। ইউএই নিরাপত্তা পরিষদে তার নিরপেক্ষ ভোটের প্রতি জোর দিয়ে বলেছে, ‘পক্ষ গ্রহণ করা শুধুমাত্র আরো সহিংসতার দিকে পরিচালিত করবে।’

পশ্চিমারা মধ্যপ্রাচ্যের বাজার থেকে রাশিয়ান জ¦ালানি অপসারণের প্রভাব মোকাবেলার জন্য তেল ও গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগেও অক্ষম হয়েছে। তারা উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে, এমনকি অঞ্চলটিতে রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ রাশিয়ান ধনকুবেরদের নগদ অর্থ লেনদেন এবং প্রমোদ ভ্রমণ থেকেও নিষেধ করতে রাজি করাতে পারেনি। শুধু তাই নয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সউদী আরব বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের(ইউএই) নেতৃত্বদের এমনকি ফোনে পেতেও অক্ষম হয়েছেন। সেন্টার ফর দ্য ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট-এর মধ্যপ্রাচ্যের ফেলো এবং দ্য ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট-এর নির্বাহী সম্পাদক অ্যাডাম ল্যামন বলেছেন, ‘বাইডেন এবং পূর্ববর্তী প্রশাসনের অধীনে সাম্প্রতিক কিছু নীতি পরিবর্তনের কারণে সম্পর্কটি সত্যিই টানাপোড়েন ঘটেছে এবং ভেঙে গেছে।’

কিন্তু কেন মধ্যপ্রাচ্য পরোক্ষভাবে মস্কোর দিকে ঝুঁকেছে? রাশিয়া এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক ওয়াশিংটনের অনেকের কল্পনার চেয়েও গভীর। লিবিয়ায় একাংশের নেতা খলিফা হাফতারের সমর্থনে যুদ্ধ অভিযান পরিচালনা করার জন্য ক্রেমলিন-সংযুক্ত ওয়াগনার গ্রুপের ভাড়াটে সৈনিকদের কাজে লাগিয়েছে বলে খবর রয়েছে। রাশিয়ান চেচেন যুদ্ধবাজ রমজান কাদিরভ মুসলিম বিশ্বের জন্য ক্রেমলিনের দূত হিসেবে কাজ করেছেন এবং ইউএই’র সশস্ত্র বাহিনীর জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ এবং পেশীশক্তি সরবরাহ করে আসছেন। ইইএই চেচনিয়ায় বিশাল গ্রোজনি মল এবং ১ শ’ তলা বিলাসবহুল আখমত টাওয়ার সহ উন্নয়ন প্রকল্পে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে।

ইউএই এবং সউদী আরব উভয়ই তাদের পশ্চিমা সম্পর্ককে মূল্য দেয়, কিন্তু আবু ধাবির নেতৃত্ব সম্ভবত মনে করে যে, এটি মার্কিন মধ্যস্থতায় আব্রাহাম একর্ডস স্বাক্ষর করার ফলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতি নমনীয় হতে পারে পারে, যা ইসরাইলের সাথে তার সম্পর্ককে স্বাভাবিক করেছে এবং ওয়াশিংটনে ইসরায়েলপন্থী আইন প্রণেতাদের প্রশংসা জিতেছে। বাইডেন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই সউদী ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্ক কিছুটা শিথীল হয়ে যায়, যখন তিনি সউদীর ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে একজন নৃশংস স্বৈরশাসক বলে অভিহিত করেন। পাশাপাশি, রিয়াদ তার চিরশত্রু ইরানের সাথে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য ওয়াশিংটনের প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে আসছে। সউদীপন্থী ভাষ্যকার মোহাম্মদ আলইয়াহিয়া গত মাসে দ্য জেরুজালেম পোস্টে লেখেন, ‘চুক্তির ত্রুটিগুলি সুপরিচিত।’ তিনি লেখেন, ‘চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা থেকে সরিয়ে দিয়েছে।’

রাশিয়ার প্রতি ঝুঁকে পগার পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক স্বার্থও জড়িত। সউদী আরব এবং ইউএই’র মতো মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী শক্তিগুলি সম্ভবত বুঝতে পারছে যে, তারা রাশিয়ার থেকে খুব বেশি বিচ্ছিন্ন হওয়ার সামর্থ্য রাখে না। এমনকি পশ্চিমাদের প্রতি আরও বেশি সহানুভূতিশীল কাতারও ক্রেমলিনের সমালোচনা করার বিষয়ে সতর্ক। যদিও ওপেকের সদস্য নয়, তবে, রাশিয়া বিশে^র তেল বাজারের অংশীদার এবং উৎপাদন বাড়িয়ে বা কমিয়ে দর বৃদ্ধি ঘাটতে পারে। পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান গল্ফ স্টেস এনালিটিক্স- এর জর্জিয়ো কাফিয়েরো বলেন, ‘ইউএই এবং রাশিয়া আফ্রিকা জুড়ে বন্দর এবং অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্পেরও অংশীদার। শেষ পর্যন্ত তারা তাদের নিজস্ব কৌশলগত স্বার্থ খুঁজছে এবং তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা ও অর্থনীতিকে মার্কিন ইচ্ছার আগে স্থান দিচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘ইউএই কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে রাশিয়া এবং চীনের এজেন্ডাগুলির দিকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সরে এসেছে।’

উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলি বাজি ধরছে যে, পুতিন আগামী কয়েক বছর ধরে ক্ষমতায় থাকবেন, যখন বাইডেন ২০ জানুয়ারী ২০২৫-এ হোয়াইট হাউস থেকে বের হয়ে যেতে পারেন। এমন একটি ধারণাও রয়েছে যে, রাশিয়া কয়েক দশক ধরে সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের মতো মিত্রদের পাশে রয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের প্রতি নির্ভরযোগ্য নয়, যেমন ২০১১ সালে এটি তার মিত্র মিশরের হোসনি মুবারকের পতন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। কিংস কলেজ লস্ডনের আন্দ্রেস ক্রিগ বলেন, ‘রাশিয়া দীর্ঘমেয়াদী, যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি টেকসই অংশীদারিত্ব।’ তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র নির্ভরযোগ্য নয়। এটি প্রতি চার বছরে একটি ইউ-টার্ন করে। ধারণাটি হল যে, রাশিয়া এমন একটি দেশ যার উপর আপনি নির্ভর করতে পারেন।’ সূত্র: দ্য ইন্ডেপেন্ডেন্ট।

Categories
আন্তর্জাতিক

ইমরান দুর্নীতিগ্রস্ত নন ওকে ৪০ বছর ধরে চিনি, চাঞ্চল্যকর মন্তব্য সিমির

তিনি এক ক্যারিশম্যাটিক ক্যারেক্টার, সম্মোহনের জাদুকরও কারও কাছে। কারও কাছে আবার ভীষণ প্রেমিকও বটে। এক ইমরান খানের বাঁকে বাঁকে বহুরূপ। সফল ক্রিকেট ক্যারিয়ারের পরই রাজনীতিতে তার আগমন। ২২ বছরের রাজনীতি তাকে ক্ষমতার সর্বোচ্চ পর্যায় আসীন করলেও শেষে অনাস্থা ভোটে হেরে যাওয়ায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পদ হারাতে হলো।

শনিবার রাতে দেশটির পার্লামেন্টের অধিবেশনে তার বিরুদ্ধে আনা বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হয়। এতে ইমরানের বিরুদ্ধে ভোট পড়েছে ১৭৪টি। প্রস্তাব পাসের জন্য দরকার ছিল ১৭২ ভোট। ইমরান খান ছিলেন পাকিস্তানের ২২তম প্রধানমন্ত্রী। ক্ষমতাচ্যুতির পর অনেকেই ইমরানকে প্রশ্ন তুললেও চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করলেন ভারতীয় অভিনেত্রী সিমি গারেওয়াল।

শনিবার মধ্যরাতে এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, ‘ইমরান খানের প্রধানমন্ত্রী পদ হারানো আমাদের দুটি শিক্ষা দেয়। এক, বিরোধীরা এক হলে জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রীকেও সরে যেতে হয়। দুই, রাজনীতিতে আদর্শবাদীদের স্থান হয় না।’ তিনি ইমরানের প্রশংসা করে আরও লিখেছেন, ‘আমি গত ৪০ বছর ধরে ইমরানকে চিনি। ওর মজ্জায় রয়েছে আদর্শ। হয়ত জীবনে কিছু ব্যর্থতার সম্মুখীন হতে হয়েছে ওকে। কিন্তু, দুর্নীতির সঙ্গে ও জড়িত- এ কথা মেনে নেওয়া যায় না।’
এই প্রথমবার নয়। আগেও ইমরান খানকে নিয়ে টুইট বার্তা দিয়েছিলেন সিমি গারেওয়াল। ২০১৮ সালে যখন ইমরান ভোটে জয়ী হয়েছিলেন, সে সময়ও বলিউডের এই অভিনেত্রীর টুইট সকলের নজর কেড়েছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘একসময় ইমরান আমাকে বলেছিলেন যে- তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং পরবর্তীতে তাকে হত্যা করা হবে। এমনটা নাকি ওকে এক পীর বলেছিলেন। মনে হয়, নিজের পরিণতি জানা সত্ত্বেও যে কোনও মূল্যে প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন ইমরান। বিষয়টি দুঃখজনক…।’

সূত্র : এই সময়, জি নিউজ ও হিন্দুস্তান টাইমস।

Categories
আন্তর্জাতিক

তুরুপের তাশ এখনো ইমরান খানের হাতেই

পাকিস্তানের সেনাবাহিনী দেশটির ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে একক ক্ষমতাশালী বলে সারা বিশ্বে স্বীকৃত।সেনাবাহিনী যখন যাকে ইচ্ছা ক্ষ্মতায় এনেছে আবার ক্ষমতা থেকে ছুড়েও ফেলে দিয়েছে।সেনাবাহিনীকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে এমন ক্ষমতাশালী রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেশটির ইতিহাসে দেখা যায় না।বলা হচ্ছে সেনাবাহিনীর একক কতৃত্ব কে চ্যালেঞ্জ করেই ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন ইমরান খান।

আপাতত প্রধানমন্ত্রীর পদ হারালেও কয়েকটি বিষয় ইতিমধ্যে পরিষ্কার হয়েছে।
পাকিস্তানের ১১ টি রাজনৈতিক দল ইমরান খানের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে যেখানে ৫০ বছর ধরে একে অপরের বিরুদ্ধে রাজনীতি করা পৃথক দুটি দলও রয়েছে।এই সম্মলিত ১১ টি দলের আসন সংখ্যা ১৭৪ টি। এবং ইমরান খান এককভাবে ১৫৫ টি আসনের অধিকারী, তার সাথে জোটবদ্ধ আছে আরো ১০ টির বেশি আসন।

ইমরান খানের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ বিরোধী শক্তিগুলি সেনাবাহিনী এবং দেশটির বিচার বিভাগ স্বীকৃত দুর্নিতিবাজ দল।এধরনের এলায়েন্স পাকিস্তানের জণগোনের সামনে দুইটি অপসন বেছে নেয়ার সুযোগ করে দিয়েছে যেখানে একক প্রতিপক্ষ ইমরান খান।এতে তার জনপ্রিয়িতা ক্রমান্নয়ে বারবে বলা ধারণা করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের ইতিহাসে মুহাম্মাদ আলি জিন্নাহর পরে সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব ইমরান খান এমন দাবিও করা হচ্ছে যদিও সুষ্ঠু ভোটেই কেবল জানা যাবে কত ভাগ পাকিস্তানি ইমরান খানের পক্ষে রয়েছে।

শুধু পাকিস্তানে নয় সারা বিশ্বেই ইসলামপন্থীদের কাছে ইমরান খান অত্যন্ত জনপ্রিয়।বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণ মাধ্যমীর সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ধারণা করা হচ্ছে ইমরান খানের শেষ তুরুপের তাশ হবে তালেবান।আফগানিস্তানে তালেবানকে ক্ষমতায় আনতে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালান ইমরান খান।।তালেবানের সমর্থন ছাড়া স্থিতিশীল পাকিস্তান কল্পনাও করা যায় না।পাকিস্তানের কোন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর উপরে তালিবানের সমর্থন থাকলে সেটি হবে ইমরান খান।জাতিগত ভাবে পোষতুন তালেবান কে ক্ষমতায় আনতে ব্যাপক কলকাঠি নাড়ান পাঠান ইমরান খান।যেটি তার রাজনৈতৈতিক বিচক্ষণতা বলেই দৃশ্যমান হচ্ছে।

আপাতত সেনাবাহীনির সঙ্গে দূরুত্ব তৈরী হলেও ভবিষ্যতে অশান্ত পাকিস্তানকে শান্ত করতে আবারো সেনাবাহিনীকে ইমরান খানের কাছেই ধরণা দিতে হতে পারে পশ্চিমা গণ মাধ্যমে এখনই এই ধরণের উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।

Categories
আন্তর্জাতিক

খনি থেকে তেল তুলছে আফগানিস্তান, দৈনিক আয় হচ্ছে দেড় লাখ ডলার!

আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় সারপোল ও ফারিয়াব প্রদেশে তিনটি তেলের খনির সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব খনিতে আট কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল তেলের মজুদ রয়েছে বলে ধারণা করছেন খনি বিশেষজ্ঞরা।

আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় সারপোল প্রদেশে একটি তেলের খনি উদ্বোধন করা হয়েছে। খনিটি থেকে নিজস্ব প্রযুক্তিতে তেল তুলবে ইসলামিক আমিরাত প্রশাসন। প্রাথমিক অবস্থায় এটি থেকে প্রতিদিন ২০০ টন তেল উত্তোলন করা হবে, যার বাজারমূল্য প্রায় দেড় লাখ ডলার। তালেবান সরকারের প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী আব্দুল গনি বারাদার গতকাল শুক্রবার তেল উত্তোলন কাজের উদ্বোধন করেন। খবর তোলো নিউজ ও বখতার নিউজ।

মোল্লা আব্দুল গনি বারাদার বলেন, আমরা এখানে প্রকল্পটি উদ্বোধন করছি, যা সমগ্র আফগানিস্তানের জন্য একটি সম্পদ। তিনি জানান, কাশকারি ব্লকে দশটি তেলের কূপ রয়েছে এবং উত্তোলিত তেলের পরিমাণ প্রতিদিন ২০০ টন পর্যন্ত পৌঁছাবে। এ মাধ্যমে যে আয় হবে, তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পুনর্গঠন ও সংস্কারে ব্যয় করা হবে।

‘কাশকারি’ তেল খনি উদ্বোধনকালে আরো উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী শাহাবুদ্দিন দেলোয়ার। তিনি বলেন, এই খনির তেল বিক্রির অর্থ আফগানিস্তানের পুনর্গঠনে কাজে লাগানো হবে এবং এক্ষেত্রে অবশ্যই সারপোল প্রদেশ অগ্রাধিকার পাবে।

দেশটির খনি ও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোনো কোম্পানির কাছে এ কূপ থেকে তেল উত্তোলনের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। ইসলামিক আমিরাত নিজেরাই এসব তেল উত্তোলন করবে।

Categories
আন্তর্জাতিক

বিদায় বেলায় জাতির উদ্দেশ্যে যা বলে গেলেন ইমরান খান

আমি ‘আমদানি’ করা সরকার মানি না। এর বিচারের জন্য জনগণের কাছে ফিরে যাবো। সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে মর্মাহত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তা সত্ত্বেও জাতীয় পরিষদ পুনর্বহালের সিদ্ধান্তে আমি বিচারবিভাগকে সম্মান করি। তাদের দেয়া রায় আমি মেনে নিয়েছি। ইমরান খানকে এক সময় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সে সময়কে স্মরণ করে তিনি বলেন, তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন দেশে ন্যায়বিচারের অভিভাবক হলো বিচার বিভাগ। তিনি আরও বলেন, দেশের বিচার বিভাগকে তিনি যখন শ্রদ্ধা করেন তখন সুপ্রিম কোর্টের কমপক্ষে বিদেশি ষড়যন্ত্রের বিষয় তদন্ত করা উচিত ছিল।

পক্ষান্তরে সুপ্রিম কোর্ট ‘হুমকিমূলক চিঠি’র বিষয়কে গুরুতর হিসেবে বিবেচনা করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ সময় তিনি হর্স ট্রেডিং বা তার দলের নেতাদের অর্থের বিনিময়ে কিনে নেয়ার বিষয়ে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৩(এ)-এর সিদ্ধান্তে হতাশা ব্যক্ত করেন। ইমরান খান বলেন, পাকিস্তানের যুব সমাজ হলো আমাদের ভবিষ্যত। তারা যদি দেখে নেতারা তাদের বিবেক বিক্রি করে দিচ্ছেন, তাহলে তাদের সামনে আমরা কি শিক্ষা রেখে যাচ্ছি? এমনকি সংরক্ষিত আসনে যেসব ব্যক্তিকে এমপি বানানো হয়েছিল, তারাও অর্থের কাছে বিক্রি হয়ে গেছেন।

অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবশ্যই দাঁড়াবে জাতি বলে মন্তব্য করেন ইমরান খান। বলেন, যদি জাতি দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং দেশে অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কণ্ঠস্বর উন্নত না করে তাহলে কেউই তাদেরকে রক্ষা করতে পারবে না।

হুমকিমূলক চিঠির বিষয়ে তিনি বলেন, এই চিঠি মিডিয়া বা পাবলিকের সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না। কারণ এটা কোড সম্বলিত। এই কোড প্রকাশ হলে পাকিস্তানের অনেক গোপন তথ্য প্রকাশিত হয়ে পড়বে। ইমরান খান বলেন, পাকিস্তানে অনাস্থা প্রস্তাবে বিদেশি হস্তক্ষেপ আছে। আমি চাই সুপ্রিম কোর্ট এ বিষয়ে দৃষ্টি দেবে। কারণ, এটা অত্যন্ত গুরুতর এক অভিযোগ। বিদেশি একটি দেশ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তার দেশের সরকারকে উৎখাত করতে চায়। এ জন্য সুপ্রিম কোর্ট তদন্ত করবে বলে তিনি আশা করেন। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত এবং মার্কিন কর্মকর্তার মধ্যে একটি মিটিং হয়। ওই মিটিংয়ে যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করে যে- আমি ইমরান খানের রাশিয়া সফর করা উচিত হয়নি।

অনাস্থা প্রস্তাব আনার আগেই ইমরান খান অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওই কর্মকর্তা পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূতকে সতর্ক করেন। বলেন, যদি ইমরান খান এই অনাস্থা প্রস্তাব থেকে নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম হন, তাহলে পাকিস্তানের সামনে ভয়াবহ পরিণতি আসবে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওই কর্মকর্তা আগেই জানতেন যে, তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেয়া হবে না। তারা আরও জানে ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে পারলে পাকিস্তানে কে ক্ষমতায় আসবে।

ভাষণে পাকিস্তান মুসলিম লিগ নওয়াজের (পিএমএলএন) প্রেসিডেন্ট শাহবাজ শরীফের কড়া অভিযোগ আনেন ইমরান। শাহবাজকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, তিনি তো দৃশ্যত শপথ গ্রহণের জন্য তার শেরওয়ানি পর্যন্ত প্রস্তুত করে ফেলেছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি বিদেশি ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন।