Categories
অপরাধ

‘আমার স্বামী রবিউল ইসলামকে পুলিশ নির্যাতন করে হত্যা করেছে’

স্বামীকে হারিয়ে প্রায় পাগলপ্রায় নিহত রবিউল ইসলামের স্ত্রী মনিরা বেগম। তার কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে আশপাশের পরিবেশ। স্বজনরা দেখতে গেলেই তাদের গলা জড়িয়ে ধরে হু হু করে কেঁদে উঠছেন তিনি।মনিরা বেগম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘পুলিশের কারণে আমি বিধবা হয়েছি, আর আমার সন্তান হয়েছে অনাথ। আমরা এখন কী নিয়ে বাঁচব, কীভাবে বাঁচব।’
মনিরা বেগম অভিযোগ করেন, ‘আমার স্বামী রবিউল ইসলামকে পুলিশ নির্যাতন করে হত্যা করেছে। আমার স্বামী ছিলেন নিরপরাধ। পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা করায় তার এই পরিণতি হয়েছে।’

তিনি বলেন,’আমার ৮ মাস বয়সের মেয়ে রোজমনি আখতার তার বাবার আদর থেকে চিরদিনের জন্য বঞ্চিত হলো। আমার স্বামী ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তার কাঠের ব্যবসার আয়ে সংসার ভালোভাবে চলছিল। এখনতো আমরা নিরুপায় হয়ে গেলাম। আমাদের বেঁচে থাকার অবলম্বন চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেল।’

‘পুলিশ কর্মকর্তা এসআই হালিমুর রহমানসহ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য পুলিশের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই,’ বলেন তিনি।এ ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে, শুক্রবার বিকেলে নিহত রবিউল ইসলামের ময়নাতদন্ত করা হয়। সন্ধ্যায় তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। শুক্রবার রাতে বাড়ির পাশে দাফন করা হয় রবিউলকে।

গত বৃহস্পতিবার লালমনিরহাট সদর উপজেলার হারাটি ইউনিয়নের কাজীর চওড়া গ্রামে বৈশাখী মেলা থেকে রবিউলকে আটক করে পুলিশ। এ সময় রবিউল নিজেকে নিরপরাধ দাবি করে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা করেন। পরে তাকে লালমনিরহাট সদর থানার সাব ইন্সপেক্টর এসআই হালিমুর রহমানসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই রাতে রবিউলকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশের এসআই হালিমুর রহমানকে শুক্রবার বিকেলে থানা থেকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।
নিহত রবিউল ইসলাম লালমনিরহাট সদর উপজেলার হারাটি ইউনিয়নের কাজীর চওড়া গ্রামের দুলাল খান ও সাফিয়া বেগমের ছেলে। তিনি পেশায় কাঠ ব্যবসায়ী ছিলেন।

নিহতের ভাই সোহাগ খান শনিবার দুপুরে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমরা অভিযুক্ত পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছি। পরিবারের সদস্যরা ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করে আজ রাতে অথবা আগামীকাল সকালে মামলা দায়ের করা হবে।’

লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সামিরা হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের এখানে এক্সপার্ট নেই। এ কারণে মরদেহের ভিসেরা সংগ্রহ করে শনিবার সকালে ঢাকার মহাখালীতে পাঠানো হয়েছে। ১ মাসের মধ্যেই ভিসেরা রিপোর্ট পেয়ে যাব। তখন জানতে পারব রবিউল ইসলামের মৃত্যু কী কারণে হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভিসেরা রিপোর্ট পাওয়ার পর আমরা প্রেস রিলিজের মাধ্যমে বিস্তারিত জানাব। যেহেতু এটি আলোচিত বিষয় তাই আগে থেকে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) শাহা আলম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘রবিউল ইসলামের মৃত্যু ঘটনায় থানায় একটি ইউডি (আনন্যাচারাল ডেথ) মামলা হয়েছে। নিহতের পরিবার থেকে এখনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তারা অভিযোগ দিলে পুলিশ অবশ্যই গুরুত্ব সহকারে তা আমলে নেবে।’

Categories
অপরাধ

ইফতার পর্যন্ত বাঁচতে চেয়েছিলেন মোরশেদ: র‍্যাব

কক্সবাজার সদরের পিএমখালীতে সেচ প্রকল্পের বিবাদকে কেন্দ্র করে মোরশেদ আলীকে হত্যা ও পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। নিহত মোরশেদ ইফতার পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখার আকুতি করেও শেষ রক্ষা পাননি বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম ইউসুফ। আজ শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় র‌্যাব-৭-এর প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি।
তিনি বলেন, কক্সবাজার সদরের পিএমখালীতে মোরশেদ আলী (৩৮) হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

গ্রেপ্তাররা হলেন- মাহমুদুল হক, মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, আবদুল আজিজ ও নুরুল হক। আসামিরা ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে পিএমখালী ইউনিয়নের চেরাংঘর স্টেশন বাজারে ইফতারি কিনতে গিয়ে খুনের শিকার হন ওই ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোরশেদ আলী প্রকাশ মোরশেদ বলী (৪০)। মোরশেদ বলী এক দশক ধরে পরিবার নিয়ে সৌদি আরবে প্রবাসজীবনের পর দুই বছর আগে গ্রামে ফেরেন। তিনি গ্রামে এসে মাছের ঘেরসহ ক্ষেত-খামার গড়ে তুলতে শুরু করেন। এলাকায় আসার পর থেকে পানি সেচ প্রকল্প নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক মেম্বার মোহাম্মদুল হকের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার সময় নিহত মোরশেদ বলী যখন চেরাংঘর স্টেশনের তরকারি দোকানের সামনে এসে কেনাকাটা করছিলেন, তখনই আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল মোস্তফা আলাল এবং যুবলীগ নেতা জয়নাল আবেদীন গলিটি ঘিরে লোকজনের আসা-যাওয়ার পথ বন্ধ করে দেন। এ সময় দুজনই সমস্বরে বলতে থাকেন- ওপরের নির্দেশ আছে মোরশেদ বলীকে মেরে ফেলার জন্য। এমন হুঁশিয়ারির সঙ্গে সঙ্গেই মামলার এক নম্বর আসামি যুবলীগ নেতা আবদুল মালেক তার হাতের লম্বা কিরিচ নিয়ে প্রথমে মোরশেদের মাথা লক্ষ্য করে কোপ মারেন। এরপর সৌদি আরব থেকে হত্যার মিশন নিয়ে আসা আসামি মোহাম্মদ আলী প্রকাশ মোহাম্মদ হাতুড়ি দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য মোরশেদের অণ্ডকোষে বারবার আঘাত করেন।

ঘটনার অন্যতম প্রধান নায়ক আসামি মোহাম্মদুল হক এ পর্যায়ে ধারালো কিরিচ দিয়ে মোরশেদের ডান হাতের কবজিতে কোপ দিয়ে প্রায় বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। এরপর জাহাঙ্গীর আলম, মতিউল ইসলাম, ছৈয়দুল হক, হামিদুল হক, তাহেরুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও মেম্বার আরিফুল্লাহ, আক্কাস, শাহিন, খোরশেদ আলম, সৈয়দ মোহাম্মদ আলী প্রকাশ আলী ভাইয়ের ভাই মাহমুদুল করিম ও গ্রেপ্তার হওয়া দিদারুল আলম, আবদুল্লাহ, আবদুল আজিজ, আবদুল হাই, ওমর ফারুক, ইয়াছিন, সাইফুল ইসলাম, ওসমান, আজহারুল ইসলাম, জাহেদুল ইসলামসহ অন্যরা ছোরা, লোহার রড দিয়ে মোরশেদকে উপর্যুপরি আঘাতে আঘাতে ঝাঁঝরা করে ফেলেন। এলাকার লোকজনের মতে, ঘটনাস্থলেই মৃত্যু নিশ্চিত করে সংঘবদ্ধ খুনির দল এলাকা ছাড়ে।

নিহত মোরশেদ বলীর ছোট ভাই ও মামলার বাদী শিক্ষানবিশ আইনজীবী জাহেদ আলী জানান, ‘স্থানীয় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের এগারোজনের একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে আমাদের এলাকাজুড়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছিল। তারাই আমাদের পরিবারের সেচ পাম্পটি দখলে নিয়ে কৃষকদের জিম্মি করে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছিল। এমনকি সিন্ডিকেট সদস্যরাই এলাকায় করছিলেন ভূমিদস্যুতাসহ যাবতীয় অপকর্ম। ’

তিনি বলেন, নিহত মোরশেদ অন্যায়ের বিরুদ্ধে একটু প্রতিবাদী ছিলেন। তিনি সিন্ডিকেটের অবৈধ কাজের প্রতিবাদ করতে গিয়েই খুনের শিকার হলেন। মামলার বাদী জাহেদ আলী জানান, সাবেক ইউপি মেম্বার ও বিএনপি নেতা মোহাম্মদুল হক সেচ পাম্পটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তার চাচাতো ভাই এবং ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি আবদুল মালেকের মাধ্যমে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে সিন্ডিকেটটি গঠনে অন্যতম ভূমিকা পালন করেন।

Categories
অপরাধ

নববর্ষে পার্কে কিশোর-কিশোরী, ভিডিও করে দুই ডিবি বরখাস্ত

বাংলা নববর্ষের দিনে কুমিল্লা নগরীর একটি পার্কে বসে থাকা দুই কিশোর-কিশোরীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের দায়ে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখাার (ডিবি) দুই সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখাার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সত্যজিৎ বড়ুয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, বৃস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) রাতে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে ডিবির ওই দুই সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়। তাঁরা হলেন- নজরুল ইসলাম ও রোমান হাবিব রবিন।

দুই কিশোর-কিশোরীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের একটি ভিডিও এরই মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এক মিনিট ১০ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যায়, নববর্ষের দিন জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় লাগোয়া ‘কুমিল্লার নগর উদ্যানে’ বসে গল্প করছিল দুই কিশোর-কিশোরী। এ সময় পেছন থেকে ভিডিও করতে করতে তাদের সামনে গিয়ে পরিচয় জানতে চান ডিবি পুলিশের একজন সদস্য। তাদের দাঁড় করিয়ে একের পর এক প্রশ্ন করতে থাকেন তিনি। এ সময় কিশোরীর মাস্ক খোলার জন্য বলতে গিয়ে তাকে ‘তুই’ করে সম্বোধন করেন পাশে থাকা আরেক সদস্য। এরপরই পরিচয় জানতে চাওয়া ওই সদস্য কিশোরকে বলেন, ‘মুড়ায়া ছাতনা ছিরালামু একবারে। ’

এ ছাড়া ডিবির সদস্যরা ঘটনার সময় মেয়েটির বাবার ফোন নম্বর চাইলে তারা ভয়ে মাফ চাইতে থাকে এবং মেয়েটির বাবা বিদেশ থাকেন বলে জানায় ছেলেটি। তখন পাশ থেকে একজন বলতে থাকেন, ‘বিদেশ থেকে (কিশোরীর বাবা) বাবা আইব এখন, নইলে অফিসে নিয়া যামু। অফিস থেকে অভিভাবক আইসা নিয়া যাইবো। ’ ঘটনার সময় ছেলেটিকে কয়েকবার মাফ চাইতে দেখা যায়। তবে কর্ণপাত করেননি পুলিশ সদস্যরা।

ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছি। বিষয়টি আমাকে কয়েকজন মৌখিকভাবেও জানিয়েছেন। এটি নজরে আসার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই দুই পুলিশ সদস্যকে চিহ্নিত করা হয়। এরপর রাতেই তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) কুমিল্লার সাবেক সভাপতি বদরুল হুদা জেনু বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশ যেকোনো কিছুর ভিডিও ধারণ করতে পারে। তবে সেটা অবশ্যই দালিলিক প্রমাণ হিসেবে। কিন্তু নগর উদ্যানের কিশোর-কিশোরীদের সঙ্গে যে কথাবার্তাগুলো শুনেছি, তা কাম্য নয়। তাদের ধারণ করা এ ভিডিও কীভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ল তাও খতিয়ে দেখা দরকার। এ ঘটনায় যদি ওই কিশোর-কিশোরী কেউ আত্মঘাতী কোনো সিদ্ধান্ত নিতো, সেক্ষেত্রে এর দায়ভার কে নেবে? ভিডিওটি ছড়িয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অপরাধ করা হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

Categories
অপরাধ

ভয় দেখিয়ে দুই যুবকের প্রায় ১৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নিল পুলিশ

গাজীপুরে মামলার ভয় দেখিয়ে মোটরসাইকেলসহ দুই বন্ধুকে সারা রাত আটকে রেখে ১২ হাজার ৮০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরদ্ধে। অভিযুক্ত এএসআই শাহাদাৎ হোসেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বাসন থানায় কর্মরত আছেন।

জানা গেছে, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মধ্যপাড়া ইউনিয়নের নস্করচালা গ্রামের দুই বন্ধু মনির হোসেন ও আলফাজ হোসেন একটি নতুন মোটরসাইকেল নিয়ে বৃহস্পতিবার গাজীপুর মহানগরীর সালনার মোল্লাপাড়া এলাকায় আরেক সহপাঠি বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে যান। ফেরার পথে রাত ৯টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাসন থানার নাওজোড় এলাকায় উড়াল সড়কের কাছে পৌঁছালে এএসআই শাহাদাৎ হোসেন, কনস্টেবল নোমান ও মিন্টু তাদের গতিরোধ করেন।

মোটরসাইলের কাগজপত্র যাচাইয়ের নামে তাদের দেহ তল্লাশিসহ নানাভাবে হয়রানি ও মামলা দিয়ে গ্রেপ্তারের ভয়ভীতি দেখান। দুই কনস্টেবল তাদের পকেটে তল্লাশি করে দুজনের কাছ থেকে ৬ হাজার ৮০০ টাকা নিয়ে নেয় এবং বাড়িতে খবর দিয়ে আরো টাকা আনতে বলেন। ছেলেদের আটক করার খবর পেয়ে রাতেই মনির ও আলফাজের বাবা সেখানে ছুটে যান। পরে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে আরো ৬ হাজার টাকা দিলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

আলফাজ ও মনির জানান, দুই মাস আগে কেনা নতুন মোটরসাইকেল নিয়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন তারা। মোটরসাইকেল ক্রয়ের রশিদও তাদের সঙ্গে ছিল। সেটি দেখালেও পুলিশ নানাভাবে ভয়ভীতি দেখায়। পরে ১২ হাজার ৮০০ টাকা দিয়ে দিলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে অভিযুক্ত এএসআই শাহাদাৎ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

জানতে চাইলে বাসন থানার ওসি মালেক খসরু খান বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটনের উপ-কমিশনার (অপরাধ) জাকির হাসান বলেন, ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Categories
অপরাধ

ঢাবি ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে সাবেক রবি ভিসি ও ঢাবি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

ঢাবি ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি এবং ২০১৯ সালে একুশে পদকপ্রাপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ ঘোষের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাবি বাংলা বিভাগের একাডেমিক কমিটি।

গত মার্চে ঢাবি’র বাংলা বিভাগের ২য় বর্ষের এক ছাত্রী তার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনলে, ২৯ মার্চ বাংলা বিভাগের একাডেমিক কমিটি ঘটনার সত্যতা প্রমাণসাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক কমিটির নিকট ‘ক্ষমা’ ও ‘করুণা’ ভিক্ষা করলে একাডেমিক কমিটির সদস্যরা তার দ্বারা সংঘটিত অতীতের বিভিন্ন যৌন নির্যাতনের ঘটনার কথা উল্লেখ করে তার এই প্রার্থনা গ্রহণ করেননি।

শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ ঘোষকে ঢাবি’র একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি, তার নামে বরাদ্দকৃত কক্ষটি বাতিলের সুপারিশ করেছেন কমিটি।

Categories
অপরাধ

চাইলে ওই তরুণী ৬ যুবকের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবেন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার সারা দিন শেষে গভীর রাত পর্যন্ত সোশ্যাল সাইটগুলোতে এ বিষয়ে চলেছে তুমুল চর্চা। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, এক তরুণীকে সারপ্রাইজ দিতে চাইছেন তার এক বন্ধু। দুই হাত দিয়ে তরুণীর চোখ বন্ধ করে ধরেন।

এরপর চোখ খুলে দেন, দেখা যায় ধীরে ধীরে রেস্তোরাঁয় একে একে পাঁচ তরুণ প্রবেশ করেন। এরপর ওই তরুণীকে ছয় যুবক নানা অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। এসবের মধ্যে অন্যতম অভিযোগ, মেয়েটি নাকি একই সঙ্গে ছয় ছেলের সঙ্গেই প্রেমের সম্পর্ক চালিয়ে গেছেন।
‘স্টার গল্প’ নামের একটি ফেসবুক পেইজ থেকে এমন একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। যেখানে দেখা গেছে, মিরপুরের ওই রেস্তোরাঁয় ছয় যুবক মিলে তরুণীর কাছে নানা প্রশ্নের জবাব চাইছেন। একসময় তরুণী হাত থেকে একটি বস্তু ছুড়ে মারেন। একসময় কান্নাও করে ফেলেন।

রোমান হক নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে কয়েকটি ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে একজন বলছেন, মেয়েটির সঙ্গে সম্পর্কে এমনভাবে জড়িয়েছিলেন যে তিনি সাইকো হয়ে গিয়েছিলেন। মেয়েটিকে তিনি অন্ধের মতো বিশ্বাস করতেন। তার স্বজন বন্ধুবান্ধবরাও ওই মেয়ের কাছ থেকে দূরে থাকতে বলতেন, তিনি শুনতেন না। দামি উপহারসামগ্রী মেয়েকে তিনি দিতেন। একটা সময় তিনি তদন্ত করতে গিয়ে জানতে পারেন, মেয়েটি ছয়টি প্রেম করছে একই সঙ্গে। এরপর সকলের সঙ্গে যোগাযোগ করে মিরপুরের ওই রেস্তোরাঁয় ডেকে আনেন। যুবকের দাবি, সকলেই তার প্রেমিক।

রোমান হকের অ্যাকাউন্ট থেকে ছবি ভিডিওসহ পোস্টটি শেয়ার হয়েছে ২৪ হাজার। মন্তব্য পড়েছে প্রায় ৬ হাজার। আর লাইক পড়েছে ৫৩ হাজার। এ ছাড়া ১০টি অ্যাটাচমেন্ট পৃথকভাবে লাইক শেয়ার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই পোস্ট ‘স্টার গল্প’ নামের ফেসবুক পেইজ ভিডিও বানায়। যেখান থেকে প্রায় অর্ধকোটিবার ভিডিওটি দেখা হয়েছে।

মেয়েটির অপরাধ এবং তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল প্রতিক্রিয়া হয়েছে। দিনভর এই ঘটনায় ট্রল, সমালোচনা, মিম চালানো হয়েছে। মেয়েটির ভিডিও ডাউনলোড করে আপলোড করা হয়েছে শত শত পেইজে ও ফেসবুক অ্যাকাউন্টে। ইউটিউব ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. নাজমুল হক বলছেন, ‘মেয়েটির অপরাধ থাকলেও আইন কেউ নিজের হাতে তুলে নিতে পারবে না। তিনি মনে করেন, অনলাইন হ্যারাজমেন্ট মোটেও কাম্য নয়। তিনি বলেন, ‘যারা এই ভিডিও বা ছবি ছড়িয়েছে সেটা সাইবার অপরাধ। ওই মেয়ের ইথিক্যাল সমস্যা থাকলে সেটার সমাধান মোটেই অনলাইন হ্যারাজমেন্ট নয়। হয়তো ওই মেয়ের কাউন্সেলিং দরকার, তবে অন্যদের এভাবে হ্যারাজ করার অধিকার নাই, আইন তো নিজের হাতে তুলে নেওয়া যায় না!’

নাজমুল হক বলছেন, ‘নয় বা ছয়, সংখ্যা যেটাই হোক, এটার জন্য আপনি কম্পিটেন্ট অথরিটির কাছে কতখানি ইথিক্যাল বিচ্যুতির বা প্রতারণার অভিযোগ তুলবেন সেটা আপনার অধিকার এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রচলিত আইন মোতাবেক সুবিচার পাবেন সেটাও অধিকার। তবে এটা আপনার অনধিকার ও অপরাধ যে আপনি তাকে পাবলিকলি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হ্যারাজ করবেন। বলা বাহুল্য, ওই মেয়ের এখন এটা অধিকার হলো যে সে আপনাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে জাজমেন্টাল হলে বিপদ প্রত্যাসন্ন!’

Categories
অপরাধ

আমি এমপি কেয়া চৌধুরির মেয়ে, তুই আমার বাসার কাজের মেয়ের শরীরে হাত দিয়েছিস!

রেজওয়ানা চৌধুরী বৃষ্টি। কখনো সোহা চৌধুরী নামেও নিজেকে পরিচয় দেন ত্রিশোর্ধ্ব এই নারী। তার মায়ের নাম কেয়া চৌধুরী। এক সময় জাতীয় পার্টির রাজনীতি করলেও তিনি কখনো এমপি ছিলেন না। বর্তমানে নেই তার কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা। কিন্তু মায়ের নামের সঙ্গে মিলের কারণে নিজেকে সাবেক একজন এমপি’র মেয়ে পরিচয় দিয়ে খুলে বসেছিলেন ভয়ঙ্কর প্রতারণার দোকান। বিভিন্ন অনলাইনের মাধ্যমে মোবাইল বিক্রেতা, কাপড় বিক্রেতা, সবজি বিক্রেতা, মাছ বিক্রেতা, ভাঙাড়িওয়ালা থেকে শুরু করে প্রত্যেকের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি এ ঘটনায় একাধিক মামলা হলে প্রতারক বৃষ্টি পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদে এমনই ভয়ঙ্কর প্রতারণার ফিরিস্তি তুলে ধরেছেন।

এ ঘটনায় প্রতারণার শিকার একাধিক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৮ই এপ্রিল রাজধানীর আদাবর থানায় একটি প্রতারণার মামলা করেন ভুক্তভোগী এক ব্যক্তি।
সরেজমিন আদাবরের বাইতুল আমান হাউজিংয়ের ১১ নম্বর রোডের ৬৯৫/১৪ নম্বর দোতলা ভবনটির দরজা বন্ধ পাওয়া যায়। মূলত এই বাসাটিতে বসেই চলে তাদের প্রতারণার কারবার। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, এরা পুরো পরিবারই প্রতারক। তাদের প্রতারণার হাত থেকে রেহাই পায়নি এলাকার সাধারণ মানুষও। ভুক্তভোগী এক মাছ বিক্রেতা তার প্রতারণা সম্পর্কে বলেন, গত দুই মাস আগে একটি অনুষ্ঠানের কথা বলে মুঠোফোনে বৃষ্টি জানায়- তারা কিছু মাছের অর্ডার দিতে চায়। কিছু তাজা মাছ তাদেরকে সরবরাহ করতে হবে। এ সময় নিজেকে কখনো এমপির মেয়ে এবং কখনো সচিবের ও কাউন্সিলরের ভাতিজি পরিচয় দেয়। এবং আদাবরে তাদের অনেকগুলো বাড়ি রয়েছে বলে জানায়। তার কথায় প্রলুব্ধ হয়ে পরদিন যখন মাছের টাকা আনতে বাসায় যাওয়ার পথে প্রতারক বৃষ্টি মাছ বিক্রেতাকে কিছু কাঁচা বাজার বাসায় নিয়ে আসতে অনুরোধ করে। এ সময় মাছ বিক্রেতা ৯ হাজার টাকার বাজার করে নিয়ে আসলে তাকে বাসার দ্বিতীয় তলায় উঠতে বলে।

এ সময় মাছের এবং কাঁচাবাজারের টাকা চাইলে অভিযুক্ত প্রতারক কেয়া চৌধুরী, তার মেয়ে বৃষ্টি ও তাদের বাসার কাজের মেয়ে কলাপসিবল গেট বন্ধ করে দেয়। বলে, তুই আমার বাসার কাজের মেয়ের শরীরে হাত দিয়েছিস। এ সময় তার কাছে উল্টো এক লাখ টাকা দাবি করে এবং তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করে। এ সময় লাঠি, ছুরিসহ বিভিন্ন জিনিস দিয়ে মারতে আসে। পরবর্তীতে বিকাশের মাধ্যমে ১২ হাজার টাকা তুলে এনে প্রতারক কেয়া চৌধুরী এবং বৃষ্টিকে দিলে সেখান থেকে ছাড়া পান ওই ব্যক্তি। সেখানে থাকা অবস্থায় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে সাহায্য চাইলে ফোন কেড়ে নিয়ে তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলার ভয় দেখায়। এ সময় কৌশলে সেখান থেকে বেরিয়ে এসে পরবর্তীতে তার নামে একটি প্রতারণার মামলা করেন। একইভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন একজন তরুণ মোবাইল ক্রেতা। অনলাইনে কেয়া চৌধুরী এবং বৃষ্টি মোবাইল ল্যাপটপ বিক্রি করবে বলে একটি পোস্ট দেয়। এ সময় ভুক্তভোগী তরুণ পুরাতন ল্যাপটপ, ফোন ক্রয় করতে আগ্রহী বললে তখন ১০ হাজার টাকায় বিক্রয় করার কথা চূড়ান্ত হয়।

এ সময় তারা আদাবরের বাসায় ল্যাপটপ এবং পুরোনো ফোন নিতে গেলে প্রথমে ১০ হাজার টাকা নিয়ে বাসার দ্বিতীয় তলায় চলে যায়। এভাবে রাত ১২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করার পর টাকা এবং ফোন কোনোটাই না দিতে কালক্ষেপণ করে এবং হেনস্তার চেষ্টা করে। এ সময় সেখান থেকে বেরিয়ে ৯৯৯-এ ফোন দেয়ার পর পুলিশ প্রতারক বৃষ্টিকে গ্রেপ্তার করলেও তার মা কেয়াকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

এই ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে বৃষ্টির মা কথিত এমপি কেয়া চৌধুরী। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতারক কেয়া বিদেশে পড়ালেখা করেছে বলে দাবি করে। আদাবরের বাসাটিতে দীর্ঘদিন ধরে মা-মেয়ের প্রতারণার কাজ চলছে। প্রতারক বৃষ্টির দুই ভাই একই বাসায় থাকলেও প্রতারণার বিষয়টি জেনেও তারা এ বিষয়ে কোনো প্রতিবাদ করেন না। প্রতারক বৃষ্টি নিজেকে এমপির মেয়ে, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি, সচিব, আমলার আত্মীয় বলে বিভিন্ন সময় দাবি করেন।

মাছ, মিষ্টি, কাপড়, ভাঙারিসহ বিভিন্ন জিনিসের অর্ডার দিয়ে কৌশলে বাসায় নিয়ে আসার পর টাকা তো দেয় না বরং তাদেরকে জিম্মি করে বিভিন্ন সময়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। জানা গেছে, প্রতারণায় অভিযুক্ত রেজওয়ানা চৌধুরীর মা কেয়া চৌধুরী এক সময় জাতীয় পার্টির রাজনীতি করলেও বর্তমানে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় নন। এছাড়া তিনি কখনো এমপি ছিলেন না। এ বিষয়ে জানতে তাকে ফোন দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদাবার থানার উপ-পরিদর্শক মো. বাসার বলেন, প্রতারক মা এবং মেয়ের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে। গত দুই মাস আগে দুটি এবং সম্প্রতি প্রতারণার অভিযোগে আরও একটি মামলা হয়েছে। পুলিশি হেফাজাতে জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে মা-মেয়ের প্রতারণার ভয়ঙ্কর চিত্র। প্রতারক বৃষ্টির মা কথিক সংসদ সদস্য কেয়া চৌধুরী এ ঘটনায় পলাতক রয়েছেন।

ওদিকে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে নিজের নাম জড়িয়ে খবর প্রকাশ করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট কেয়া চৌধুরী। তিনি বলেন, কোনো যাচাই-বাছাই না করে এমন সংবাদে তার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। তিনি বলেন, এ ধরণের বিভ্রান্তিকর খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক কোনো পক্ষের ইন্ধন থাকতে পারে।

Categories
অপরাধ

বিয়ের দুই বছরেই লাশ হলো আয়েশা

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে আয়েশা আক্তার (২০) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড বংশাল গ্রামের নুর মোহাম্মদ ফরিক বাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি ওই এলাকার মাহফুজুল ইসলামের স্ত্রী। শ্বশুরবাড়ির দ্বিতীয় তলা ভবনের একটি কক্ষের মেঝেতে পড়ে থাকা অবস্থায় হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করেছে।

বছর দুয়েক আগে মাহফুজুলের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় আয়েশা আক্তারের। তাঁদের দশমাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। গৃহবধূ আয়েশার পরিবারের অভিযোগ- তাঁর গলায় হাত দিয়ে চেপে ধরার দাগ পাওয়া গেছে। তবে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি ওই গৃহবধূ মানসিক যন্ত্রণা থেকে আত্মহত্যা করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন জানান, মাহফুজুলের পাকা ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় গৃহবধূ আয়েশার লাশ দেখতে পায় পরিবার।

পরে থানা পুলিশকে খবর দেয়।

নিহত গৃহবধূর ভাই প্রবাসী মো. আবদুল কাদের বলছেন, এটা পূর্ব পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য তাঁরা আমার বোনকে মানসিক রোগী বানাচ্ছে। কয়েকদিন আগেও আমি আমার বোনের সাথে মোবাইলে কথা বলেছি। সে একজন সুস্থ মানুষ ছিল। আমার বোনকে তাঁর স্বামী, দেবর, ননদ যৌতুকের জন্য সারাক্ষণ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো। আমার বোনের গলায় হাত দিয়ে চেপে ধরার দাগ রয়েছে। তাঁর লাশ পাওয়া গেছে দেবরের রুমে। তাঁর নিজের রুমে আত্মহত্যা করে দেবরের রুমে গেল কিভাবে? দরজা খোলা রেখে কি কেউ নিজের গলায় ফাঁস লাগায়? আমার বোনের লাশ ঝুলানো অবস্থায় ছিল না, মেঝেতে পড়ে ছিল। তাদের গতিবিধি সবই সন্দেহজনক। এই কারণে সুষ্ঠু তদন্ত করে হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য বের আনতে পুলিশের সহযোগিতা চাই।

লাশ উদ্ধারকারী হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, মেয়ের শ্বশুরবাড়ির একটি কক্ষের মেঝে থেকে আয়েশার লাশ উদ্ধার করেছি। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে। তবে ওই গৃহবধূর পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোন মামলা হয়নি। তাঁর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন আসলেই ঘটনাটি পরিষ্কার হবে এটা হত্যা নাকি আত্মহত্যা।

Categories
অপরাধ

পুত্রবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শ্বশুর গ্রেফতার

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পুত্রবধূকে (১৮) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শ্বশুরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার নাম মো. কামাল হোসেন খন্দকার (৫০)। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পুত্রবধূ বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন।

এর আগে পাইনাদী নতুন মহল্লা এলাকা থেকে ৯ এপ্রিল (শনিবার) রাত ১২টায় তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিবাদী প্রায়ই তার পুত্রবধূকে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। বিবাদীর প্রস্তাবে রাজি না থাকায় বিবাদী তাকে প্রায়ই ভয়ভীতি প্রদর্শন করত। গত ২৪ মার্চ বিকাল ৪টায় বিবাদীর ছেলে ও ভুক্তভোগীর স্বামীকে দোকান হতে কয়েল আনার জন্য পাঠায়। অতঃপর বিবাদী ভিক্টিমকে তার সাথে শারীরিক মেলামেশা করতে বলে। সে রাজি না হওয়ায় তাকে জড়িয়ে ধরলে ভিক্টিম চিৎকার করে এবং তার ডাক-চিৎকারে বাসার অন্য সদস্যরা চলে আসলে বিবাদী ভুক্তভোগীকে ছেড়ে দেয়।
ঘটনার বিষয়ে থানায় গিয়ে অভিযোগ দিলে উপ-পরিদর্শক (এসআই) শওকত জামিল শনিবার রাতে শ্বশুর কামাল হোসেন খন্দকারকে আটক করে। রবিবার দুপুরে ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত শ্বশুর কামাল হোসেন খন্দকার ওরফে গ্যাস কামালকে আদালতে পাঠায় পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত লম্পট কামাল হোসেন খন্দকার ওরফে গ্যাস কামাল সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের কর্মী। সে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে এলাকাবাসী জানায়।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মশিউর রহমান জানান, গ্রেফতারকৃত কামাল হোসেন খন্দকারের ছেলে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায়ই তার পুত্রবধূকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। ওই পুত্রবধূ প্রস্তাবে রাজি না থাকায় কামাল হোসেন খন্দকার তাকে (ভিক্টিমকে) প্রায়ই ভয়ভীতি প্রদর্শন করত। পরে ভুক্তভোগীর অভিযোগ পেয়ে অভিযুক্তকে শনিবার রাতে আটক করা হয়।

Categories
অপরাধ

গর্ভের সন্তান নষ্ট করায় অভিযুক্ত সেই পুলিশ সদস্য ৫ লাখ টাকায় মীমাংসা

চট্টগ্রামে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন ও গর্ভের সন্তান নষ্ট করায় অভিযুক্ত সেই পুলিশ সদস্য ৫ লাখ টাকায় ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে মীমাংসা করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতে দুই পক্ষের পরিবারের মধ্যে এই মীমাংসা হয়েছে।
আজ শুক্রবার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট টি আর খান বিষয়টি আজকের পত্রিকাকে নিশ্চিত করে বলেন, বিবাদী পক্ষ বিষয়টি নিয়ে আপসের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পরে উভয় পক্ষে সম্মতিতে মীমাংসা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাঁদের স্বামী-স্ত্রী মধ্যে তালাক হয়েছে। এ ছাড়া ক্ষতিপূরণ হিসেবে বাদী দেনমোহরের টাকাসহ আনুষঙ্গিক মিলিয়ে নগদ ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ হাতে পেয়েছেন। শিগগিরই বাদী ওই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করে নেবেন।

আজকের পত্রিকা অনলাইনের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন
জানতে চাইলে ভুক্তভোগী নারীর ভাই ফিরোজ মাহমুদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাঁদের (বিবাদীদের) আপসের প্রস্তাবে আমরা রাজি হয়েছি। একদিকে আমাদের সংসার অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল অন্যদিকে সঠিক বিচার পাব কিনা এই সন্দেহসহ নানা কারণে আমরা আপসে গিয়েছি। আমরা এটা নিয়ে আর কোনো ঝামেলায় জড়াতে চাই না।’

এর আগে মো. ইব্রাহিম নামে ওই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে নির্যাতন ও গর্ভের সন্তান নষ্টের অভিযোগে করা মামলায় পরস্পরবিরোধী প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশেরই পৃথক দুটি তদন্ত দল। এর মধ্যে একটি তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করে বিভাগীয় শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে। আর অন্য তদন্তে ওই পুলিশ সদস্যের অপরাধ প্রমাণ করা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পৃথক দুটি তদন্ত কার্যক্রম চালায় পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই)।

গত বছর ২ জুন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি বরাবর ওই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন ও মারধরের অভিযোগ আনেন স্ত্রী আমেনা জাহান (২১)। অভিযুক্ত ওই পুলিশ সদস্যের বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দীপ উপজেলায়। বর্তমানে তিনি চাঁদপুর জেলা পুলিশে কর্মরত। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ২২ ডিসেম্বর তাঁদের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। কয়েক মাস না যেতেই ১০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন ইব্রাহিম। শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধেও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ ছিল, বিভিন্ন সময় শারীরিক নির্যাতনের একপর্যায়ে ২০২০ সালে ১৫ সেপ্টেম্বর মৃত সন্তান প্রসব করেন আমেনা জাহান।

পুলিশের তদন্তে দোষী, দোষ পেল না পিবিআইপুলিশের তদন্তে দোষী, দোষ পেল না পিবিআই
এ সময় পুলিশ কনস্টেবল ইব্রাহিম খাগড়াছড়িতে কর্মরত ছিলেন। গত বছরের ২০ জুন ঊর্ধ্বতনের নির্দেশে অভিযোগটি তদন্তের দায়িত্ব পান খাগড়াছড়ি জেলার পুলিশ কন্ট্রোল রুমের পরিদর্শক উত্তম চন্দ্র দেব। চার মাস তদন্ত করে পুলিশ কনস্টেবল ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে তাঁর স্ত্রীকে বিভিন্ন সময় মারধর ও জখম করার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন উত্তর চন্দ্র। ওই বছরই ২০ অক্টোবর প্রতিবেদনটি ঊর্ধ্বতনের কাছে জমা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের এমন আচরণ, নৈতিক স্খলন ও অমানবিক। এটি বিভাগীয় নিয়ম শৃঙ্খলার পরিপন্থী ও শাস্তিযোগ্য অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। তদন্ত কর্মকর্তা অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক বিভাগীয় শাস্তি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে বলেও উল্লেখ করেন।

অভিযোগের সত্যতা পেয়েও পুলিশ দপ্তর থেকে অভিযুক্ত ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ায় গত বছর ৭ নভেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল–৩ এ মামলাটি করেন ভুক্তভোগী আমেনা জাহান। এ মামলায় পুলিশ কনস্টেবল ইব্রাহিমের পাশাপাশি তাঁর বাবা হেলাল উদ্দিন ও মা মোমেনা বেগমকেও বিবাদী করা হয়। আদালতের নির্দেশে ওই মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই। গত ৩১ জানুয়ারি পিবিআই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে। প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই উপপরিদর্শক মো. হুমায়ূন কবির উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণের সপক্ষে কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি বাদী নিজেও অপরাধ প্রমাণের সপক্ষে উপযুক্ত কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।

ওই তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর শুনানির ধার্য তারিখ ছিল গত ৫ এপ্রিল। ওই দিন আদালতে পিটিআইএর প্রতিবেদনের ওপর নারাজি দেয় বাদীপক্ষের আইনজীবী। একইদিন বিবাদীপক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে আপসের প্রস্তাব দেওয়া হয়।