৪ দিন একাই মাঠে থাকতে চাই বিএনপি

জুতসই হচ্ছে না সরকারবিরোধী চলমান যুগপৎ আন্দোলন। সরকারের পদত্যাগসহ ১০ দফা দাবিতে ২৪ ডিসেম্বর গণমিছিলের মধ্য দিয়ে রাজপথে গড়ায় এ আন্দোলন। এরপর ধারাবাহিকভাবে অবস্থান কর্মসূচি, বিক্ষোভ সমাবেশ, বিভাগীয় সমাবেশ, মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ, মহানগর-জেলা-থানা-ইউনিয়ন পর্যায়ে পদযাত্রার কর্মসূচি পালন করা হয়। শুরুটা আশাজাগানিয়া হলেও সেই ধারা ধরে রাখতে পারছে না তারা। অনেকদিন ধরেই রাজপথে নেই যুগপৎ কর্মসূচি। ঈদের পর জোরেশোরে মাঠে নামার ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু প্রথম কর্মসূচিতেই ঘটে ছন্দপতন। শনিবার সারা দেশে চার দিনের বিক্ষোভ সমাবেশ ঘোষণা করেছে বিএনপি। কিন্তু তা যুগপৎভাবে পালন করা হবে না। বিএনপির এমন সিদ্ধান্তে সমমনা দলগুলোর নেতারা কিছুটা অবাক ও ক্ষুব্ধ। তাই তারাও নিজেদের মতো করে কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সমমনা একাধিক দলের নেতা জানান, যুগপৎ আন্দোলনে সফলতার অন্যতম শর্ত হচ্ছে নিজেদের মধ্যে সুদৃঢ় ঐক্য। কিন্তু এখন পর্যন্ত সবার মধ্যে শতভাগ ঐক্য তৈরি হয়নি। কর্মসূচি প্রণয়ন থেকে শুরু করে তা বাস্তবায়নে রয়েছে সমন্বয়ের ঘাটতি। এমনকি আন্দোলনের দফাগুলো নিয়ে এখনো মতৈক্যে পৌঁছতে পারেনি তারা। বিএনপি রাষ্ট্র মেরামতে ২৭ এবং সরকার পতনে ১০ দফা দাবি ঘোষণা করেছে। এসব দাবির পক্ষে জনমত তৈরিতে নানা সভা-সমাবেশ ও সেমিনার করে দলটি। কিন্তু গণতন্ত্র মঞ্চের পক্ষ থেকে সরকার পতনে ১৪ এবং রাষ্ট্রসংস্কারে ৩৫ দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে। দাবিগুলো সমন্বয় করে একটি যৌথ রূপরেখা ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়। এ নিয়ে সমমনা দলগুলোর সঙ্গে সিরিজ বৈঠক করে বিএনপি। যারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দাবি তুলে ধরেনি, তাদের মতামতও নেওয়া হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। এ নিয়ে শরিকদের সঙ্গে আরও আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি।

জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্মমহাসচিব ও দলটির লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল যুগান্তরকে বলেন, যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। কর্মসূচি প্রণয়ন থেকে শুরু করে সবকিছুই আমরা আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি। গায়েবি মামলা ও নেতাকর্মীদের গ্রেফতারসহ আরও কিছু দাবিতে জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ সমাবেশ ঘোষণা করেছে বিএনপি। গ্রেফতার ও মামলা-হামলায় আমরাই বেশি ভুক্তভোগী। তাই দলের পক্ষ থেকে এককভাবে এ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, সব কর্মসূচিই যুগপৎভাবে করতে হবে-এমন কোনো কথা নেই। কোনো দল চাইলে নিজেরা আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করতে পারবে বলে আমাদের মধ্যে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাই এ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কোনো সুযোগ নেই।

আন্দোলনে থাকা দলগুলোর নেতারা বলেন, কর্মসূচি প্রণয়ন ও চূড়ান্ত করা নিয়েও অনেকের অভিমান রয়েছে। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হলেও শেষ পর্যন্ত বিএনপিই এককভাবে কর্মসূচি চূড়ান্ত করে। ঈদের পর রোডমার্চ কর্মসূচি দেওয়ার পক্ষে বেশির ভাগ দল মত দেয়।

কিন্তু বিএনপি সেই মত আমলে নেয়নি। তারা নিজেদের মতো করে কর্মসূচি ঘোষণা করে। তাই সমমনা কয়েকটি দলও আলাদা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ১১ মে ঢাকায় সমাবেশ করে গণতন্ত্র মঞ্চ। ১৯ মে রাজধানীতে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ। আর গণতন্ত্র মঞ্চ রোডমার্চ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০ মে দিনাজপুর অভিমুখে এ কর্মসূচি পালন করা হতে পারে। আবার কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। আগামী দিনে সরকারবিরোধী চূড়ান্ত আন্দোলনে মাঠে নামার আগে এসব সমস্যা দূর করতে হবে।

জানতে চাইলে গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না যুগান্তরকে বলেন, এত দলের একসঙ্গে কর্মসূচি পালন করতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সমন্বয়। আর সেটা মূলত বড় দলকেই দেখতে হয়। কারণ, কর্মসূচি তারাই চূড়ান্ত করে। পুরো দেশ কাভার করে আমরা একটা কর্মসূচি পালন করতে পারি না। আমাদের এত বড় শক্তিও নেই। কিন্তু বিএনপিও সব কাভার করে আন্দোলনটা করছে না। শনিবার বিএনপি জেলা ও মহানগরে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। হয়তো আমাদের সঙ্গে দেখা হলে বলা হয় এরপর জেলায় কর্মসূচি দেব। সবকিছু কাভার করে ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচি চূড়ান্ত বা পালন করা হচ্ছে সেরকম না। তবে আমাদের দিক থেকে বিএনপির বাস্তবতাটা মেনে নিচ্ছি। নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। যখন মানিয়ে নিতে পারছি না, তখন আমরা আমাদের মতো করে করছি।

তিনি বলেন, বিএনপি শনিবার ঢাকায় যে সমাবেশ করেছে, সেটা আমরা জানতাম না। তাই আমরা ১১ মে গণতন্ত্র মঞ্চের ব্যানারে সমাবেশ করেছি। ঢাকা থেকে বিভিন্ন জেলায় রোডমার্চ করার প্রস্তাব থাকলেও বিএনপি সেটা করেনি। কিন্তু এ কর্মসূচি আমরা করব। তবে এতে আন্দোলনের মূল সুরের সঙ্গে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

মান্না বলেন, এখন আমরা যাই করি সরকারবিরোধী চূড়ান্ত আন্দোলনে সমন্বয়টা বেশ জরুরি। আমাদের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও বাড়াতে হবে। এটার ওপর আমরা জোর দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমাদের মধ্যে কোনো মতানৈক্য নেই। যৌথ রূপরেখার ঘোষণাপত্র তৈরি নিয়ে কথাবার্তা চলছে।

গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়া যুগান্তরকে বলেন, যুগপৎ আন্দোলন কার্যকরী করা কঠিন। একই সময়ে সবাই রাজপথে কর্মসূচি পালন করবে-এটাই ছিল আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য। বিএনপি কোনো কর্মসূচি পালন করলে একই সময়ে ও একই স্থানে না হলে আলাদাভাবে তা পালন করি আমরা। আমাদের পরিকল্পনায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে থাকি। তবে আমরা সব সময় সবকিছু জানি না। আগে থেকে জানালে সেভাবে কর্মসূচি পালন করি। যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, বিএনপির ঘোর্ষিত এবারের কর্মসূচি যুগপৎভাবে পালন করা হবে না। তবে ১৯ মে ঢাকায় আমাদের দলের পক্ষ থেকে একটি সমাবেশ করা হবে। যুগপৎভাবে না হলেও বিএনপির কর্মসূচিতে আমাদের জেলা নেতাকর্মীদের অংশ নিতে বলা হয়েছে।

amazing)

About admin

Check Also

ছাদে নিয়ে প্রবাসীর মেয়েকে ধর্ষণ,  মৃত্যুর আগে জানাল ধর্ষকের নাম

প্রবাসীর ১০ বছরের একটি শিশুকে টিকটকের নামে ছাদে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *