রওশনকে দিয়ে আওয়ামী লীগকেই বার্তা দিলেন জিএম কাদের?

রওশন এরশাদকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দলের নেতার পদ থেকে অ’পসারণ করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করলো জাতীয় পার্টি। এখন স্পিকারের অনুমতি পেলেই সংসদে বিরোধী দলের নেতা হবেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। এছাড়াও রওশন এরশাদের কর্মকা’ণ্ড জাতীয় পার্টির অধিকাংশ সিনিয়র নেতা পছন্দ করেননি। তারা রওশন এরশাদের পক্ষে নেই। এটিও জানিয়ে দিয়েছেন দলের নীতিনির্ধারকদের সভায়। রওশন এরশাদ হালে পানি পাননি। বরং জিএম কাদেরের পক্ষেই সিনিয়র নেতাদের আস্থা লক্ষ্য করা গেছে। এটি জাতীয় পার্টিতে একটি বড় ধরনের নাট’কীয় পরিবর্তন।

রওশন এরশাদকে কোণঠাসা করে এবং ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে কি বার্তা দিলেন জিএম কাদের? এই বার্তাটি যতটা না জাতীয় পার্টিতে এবং রওশনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য তার চেয়েও বেশি প্রযোজ্য আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে বলেই অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন। এর মাধ্যমে জাতীয় পার্টিতে জিএম কাদেরের নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব যেমন প্রতিষ্ঠিত হলো ঠিক তেমনি সরকারের জন্য একটি সতর্কবার্তা দেওয়া হলো।

জাতীয় পার্টির একজন নেতা বাংলা ইনসাইডারকে বলেছেন যে, রওশন এরশাদকে ব্যবহার করে জাতীয় পার্টিকে ভাঙার যে কৌশল সরকার গ্রহণ করেছিল সেই কৌশল কাজে দেয়নি। অবশ্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন যে, জাতীয় পার্টি ভাঙার মতো শা’রীরিক এবং মানসিক অবস্থা রওশন এরশাদের নাই। তিনি নানা রোগে শোকে ভুগছেন এবং এই মুহূর্তে তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশে অবস্থান করছেন। কাজেই তার পক্ষে জিএম কাদেরের বি’রু’দ্ধে শক্তভাবে দাঁড়ানোটা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। জাতীয় পার্টির সিনিয়র নেতারা সভায় বিষয়টি বুঝেছেন। তারা মনে করছেন যে, দলকে টিকিয়ে রাখাটাই জরুরি। মূমুর্ষ রওশন এরশাদের সঙ্গে থেকে শেষ পর্যন্ত আম-ছালা দুটিই যেতে পারে।

জাতীয় পার্টির নেতারা মনে করেন যে, জিএম কাদের যখন সরকারের বি’রু’দ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন এবং সরকারের বিভিন্ন বিষয়ে কঠোর সমালোচনা করেছিলেন তখন সরকারের ইন্ধনেই রওশন এরশাদ মাঠে নেমেছিল। জাতীয় পার্টি এটাও মনে করে যে, সরকার রওশন এরশাদকে দিয়ে জাতীয় পার্টিকে অনুগত বিরোধী দল হিসেবেই রাখতে চেয়েছিলেন। আগামী নির্বাচনে যেন জাতীয় পার্টি কোন রকম সমস্যা না করে সেজন্যই রওশন এরশাদকে রাখা হয়েছিল। কিন্তু জাতীয় পার্টিতে রওশন এরশাদ কখনোই খুব বেশি জনপ্রিয় ছিলেন না। বরং এরশাদের স্ত্রী’ হিসেবে তার যেটুকু সম্মান প্রাপ্ত সে টুকু সম্মান পেতেন।

অবশ্য ২০১৪ সালে নির্বাচনে যখন এরশাদ বেকে বসেন এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার ক্ষেত্রে অসম্মতি প্রকাশ করেন ঠিক সেই সময়ে রওশন এরশাদের ওপর আওয়ামী লীগ নির্ভর করেছিল এবং রওশন এরশাদের কারণেই সে সময় জাতীয় পার্টি পুরোপুরি না হলেও আংশিকভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং ঐ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণ করাটা ছিল আওয়ামী লীগের জন্য একটি বিরাট অর্জন। ঠিক একই বাস্তবতায় এবারও যখন জাতীয় পার্টির ভূমিকা নিয়ে র’হ’স্য তৈরি হচ্ছে সেই সময় রওশন এরশাদকে নামানো হয়েছিল।

কিন্তু ২০১৪ এবং ২০২২ এর পরিস্থিতি এক না। ২০১৪ তে যেমন জাতীয় পার্টিতে আওয়ামী লীগের মনোভাবপন্ন লোকজনের আধিক্য ছিল এবং অনেক নেতাই মনে করতেন যে আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকলে কোন কিছু পাওয়া যাবে, মন্ত্রিত্ব বা অন্য কিছু ঠিক সেই অবস্থাটা ২০২২ এ নেই। যে সমস্ত নেতারা জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে নেয়ার ব্যাপারে সক্রিয় ছিলেন তাদের কয়েকজন মন্ত্রিত্ব পেয়েছিলেন। কিন্তু এখন সেই বাস্তবতা নেই। এখন জাতীয় পার্টি সরকারের বাইরে। অন্যদিকে নানা কারণে জিএম কাদেরের প্রতি আস্থা রাখতে পারছেন। জাতীয় পার্টির নেতারা বলছেন, জিএম কাদের সকলকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এটি ইতিবাচক। আর এই বাস্তবতাতেই এখন রওশন এরশাদ দলের ভেতর কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। আর এটি আওয়ামী লীগের জন্য জি এম কাদেরের একটি বার্তা লোক অনেকে মনে করছেন।

About admin

Check Also

আমি কি দুর্নীতি করেছি, আপনারা বলেন: পাপন

‘বিএনপি এখনো শুধু মিথ্যাচার করে চলেছে। আপনাদের বিবেককে প্রশ্ন করেন দেশে কি দুর্নীতি হয়েছে? ভৈরব, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *