চার বছর আগের ঘটনারই কি পুনরাবৃত্তি করলেন মরিয়ম?

মরিয়ম মান্নান। জমি দখলের উদ্দেশ্যে নিজের মাকে নিখোঁজ দেখিয়ে তুঘলকিকাণ্ড ঘটানোর আগে ২০১৮ সালেও আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন তিনি। সে বছর কোটা সংস্কার আন্দোলনে পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিলেন তেজগাঁও কলেজের এই ছাত্রী। যদিও অভিযোগের কোনো সত্যতা পায়নি পুলিশ। মাকে জড়িয়ে সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাটিও সারা দেশে সৃষ্টি করেছে রহস্যের ধূম্রজাল।

চার বছর আগে কোটা আন্দোলনে পুলিশি হেফাজতে নিজের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন মরিয়ম মান্নান। সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ভাইরাল হন এই শিক্ষার্থী। তখন মরিয়ম তার দাবির পক্ষে জোরালো যুক্তি দিতে পারেননি বলে দাবি পুলিশের।

সম্প্রতি মাসখানেক ধরে মরিয়ম দাবি করছেন, তার মা রহিমাকে গুম করা হয়েছে। এই দাবিতে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচিও পালন করেন তিনি। মায়ের সন্ধানে মেয়ের এমন আহাজারি নিয়ে একাধিক সংবাদ আসে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। সুশীল সমাজ থেকে শুরু করে সচেতন সব মহলই রহিমার লাপাত্তা হওয়ার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানান।

বৃহস্পতিবার (সেপ্টেম্বর) ময়মনসিংহে এক নারীর গলিত লাশ উদ্ধার হলে মরিয়ম দাবি করেন এটাই তার মা রহিমার লাশ। যদিও পুলিশ বলেছিল উদ্ধার হওয়া লাশের বয়স আনুমানিক ৩০-এর বেশি নয়। যদিও সে সময় মরিয়ম দাবি করেন তিনি তার মার কাপড়, চুল ও শরীরের বিভিন্ন অংশ দেখে নিশ্চিত হয়েছেন, এটাই তার মা রহিমারাই লাশ।

তবে ঘটনা নাটকীয়তা পায় যখন রহিমাকে জীবিত উদ্ধার করে পুলিশ। জানা যায় তাদের বাসায় একসময় ভাড়া ছিলেন যে ব্যক্তি তার বাসা ফরিদপুর থেকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হন রহিমা। তারও আগে গত এক মাস থেকেই তিনি বিভিন্ন আত্মীয়স্বজনের বাসায় ছিলেন আত্মগোপনে।
পুলিশের ধারণা, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই মা ও মেয়ে মিলে গুমের নাটক সাজিয়েছেন। আর মরিয়মের পরিবারের দায়ের করা মামলায় নাজেহাল হচ্ছে ছয় ব্যক্তি

এ ঘটনায় মামলার আসামির স্বজনরা দাবি করেন, তারা ষড়যন্ত্রের শিকার। সুষ্ঠু তদন্ত ও মরিয়ম মান্নানসহ অন্যদের বিচার দাবি করেন তারা। এদিকে নিখোঁজ নিয়ে পরিবারের কেউ নাটক করে থাকলে তার বিচার চাইলেন রহিমা বেগমের ছেলে।

About admin

Check Also

সুখবর দিলেন মিথিলা

দুই বাংলার অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা। সম্প্রতি এই অভিনেত্রী জানালেন— নতুন একটি ওয়েব সিরিজে যুক্ত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *