কথা বেশি নাই, কথা একটাই, এবার মির্জা ফখরুল জানিয়ে দিলেন তার শেষ কথা

বিএনপি হলো বাংলাদেশের অন্যতম একটি রাজনৈতিক দল। বিএনপির বর্তমান মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই সম্মানীয় পডে নিয়োজিত হবার পর থেকে তিনি সততা ও নিষ্ঠার সহিত তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। দলকে সাফল্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে করে যাচ্ছেন কঠোর পরিশ্রম যেটা স্পষ্টত প্রতিয়মান। সম্প্রতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন আমরা আর শেখ হাসিনাকে দেখতে চাই না।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বেশি কিছু বলার নেই, একটাই কথা- আমরা শেখ হাসিনাকে আর দেখতে চাই না। মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে তিলপাড়া জোড়াপুকুর মাঠের পাশে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুতের লোডশেডিং, গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, ভোলা ও নারায়ণগঞ্জে দলীয় কর্মী হত্যা, দেশব্যাপী আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস নৈরাজ্যের প্রতিবাদ ও খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের অধীন খিলাগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদা থানা বিএনপি এই প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে।
সমাবেশে মির্জা ফখরুল বলেন, বেশি কিছু বলার নেই, একটাই কথা- আমরা কি শেখ হাসিনাকে আবার দেখতে চাই? যারা আমাদের স্বাধীনতার আশা-আকাঙ্ক্ষা ধ্বংস করেছে, যারা আমাদের সন্তানদের প্রাণনাশ করেছে, যারা আমাদের রুটি-রুজি বন্ধ করে দিয়েছে, যারা কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের পেটের ভাত কেড়ে নিয়েছে, আমরা কি সেই সরকারকে আর দেখতে চাই।
তিনি বলেন, আজ আমরা চাল-ডাল-তেলের দাম কমানোর জন্য আন্দোলন করছি। কী বললেন শেখ হাসিনা? প্রতি কেজি চাল দশ টাকা দেবেন? তিনি কৃষকদের বিনা মূল্যে সার দেওয়ার কথা বললেও কৃষকরা এখন সেই সার পাচ্ছেন না। সারের দাম বেড়েছে তিনগুণ। ঘরে ঘরে চাকরি দেবেন বলে জানান। তুমি কি সেই চাকরি পেয়েছ? বরং লাখ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েও চাকরি হয় না, সেখানে আওয়ামী লীগের সিলমোহর থাকবে, তাই না?

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই সরকার আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে, আমাদের অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে। মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি করে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে।
দলীয় নেতাদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, এখন কাজের সময়। কথা বলার সময় নেই। একটাই কাজ- বাংলাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা। কারণ আজ ক্ষমতায় থাকা এই সরকার আমাদের সব অর্জনকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আমরা একটি সুখী সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। আমরা এখানে গণতন্ত্র চেয়েছিলাম, আমরা প্রতিবাদ করতে পারি, কথা বলতে পারি, মিটিং করতে পারি। সাধারণ মানুষকে মোটা কাপড়, মোটা চাল, মোটা ভাত দিতে পারি। তারা (বর্তমান সরকার) কী করেছে! একবার ’৭১ থেকে ’৭৫ এখন আবার এই সময়ে তারা আমাদের সেই স্বপ্নকে ধ্বংস করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলের কথা বললে আমাকে বলা হয়- পাকিস্তানের দালাল। পাকিস্তান আমলে চালের দাম আর আজকের চালের দামের মধ্যে পার্থক্য কী? তখন মানুষের জীবনযাত্রার মান কেমন ছিল, এখন কেমন? তখন আমরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি কারণ পাকিস্তান আমাদের শোষণ করছে, পাকিস্তান আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে সেদিন বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিলাম। এবং তারা (সরকার) আমাদের সেই অবস্থায় ফিরিয়ে এনেছে। আজ মেগা প্রকল্পে মেগা দুর্নীতি হচ্ছে। অর্থপাচার করা. বিদেশে বাড়ি নির্মাণ। এবং আমাদের মানুসের প্রাণনাশ। ভোলা-নারায়ণগঞ্জে বরকত উল্লাহ বুলু, তাবিথ আউয়াল, সেলিমা আপা, নুর আলম, আব্দুর রহিম, শাওনকে প্রাণনাশ করে আন্দোলন দমন করা যাবে না।

তিনি বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। রাজনৈতিক কারণে আটক বন্দীদের মুক্তি দিতে হবে। ৩৫ লাখ মানুষের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। সংসদ বিলুপ্ত করে নতুন নির্বাচন কমিশনের অধীনে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হবে। যার মাধ্যমে সংসদ গঠিত হবে, সরকার গঠিত হবে।
মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বিএনপি নেতা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ। যুগ্ম আহ্বায়ক ইউনুস মৃধা। আনি, আবদুস সালাম আজাদ, মীর সরাফত আলী সপু, রফিকুল আলম মজনু, আমিনুল হক, হাবিবুর রশিদ হাবিব, যুবদল নেতা সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মোনায়েম মুন্না, গোলাম মাওলা শাহীন, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আহমেদ খান প্রমুখ। পার্টি এবং অন্যান্য।

জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং পুলিশের গুলিতে দলের তিন কর্মী প্রয়াতের প্রতিবাদে ১১ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ১৬টি স্থানে সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।
প্রসঙ্গত, সামনে আসছে জাতীয় দ্বাদশ নির্বাচন আর সেই নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা প্রত্যহ তাদের কার্যক্রম পালন করে যাচ্ছেন। নির্বাচনে জয়ী হবার জন্য বিভিন্ন সভা ও সমাবেশের মাধ্যমে দলের কর্মীদের একত্র হয়ে নিরলসভাবে কাজ করার আহবান জানাচ্ছে। তবে বাংলার মানুসের প্রত্যাশা প্রত্যেকবারের মত এবারো অনুষ্ঠিত হবে একটি সুষ্ঠ ও নিরেপেক্ষ নির্বাচন।

About admin

Check Also

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাতে চায় ইইউ

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ)। বুধবার (১৮ জানুয়ারি) নির্বাচন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *