Breaking News

ভেতরে নিয়ে গেলে হয়তো আর বেঁচে ফেরা হতো না

নোয়াখালী থেকে ঢাকায় যাচ্ছিলাম। পথে গাড়ির চাকায় হাওয়া দিতে মনোহরগঞ্জের বিপুলাসার বাজারে থামি। পরিচিত কয়েকজনকে নিয়ে একটি রেস্টুরেন্টে বসেছিলাম। কফির অর্ডার দেয়া হয়েছিল। টেবিলে কফি আসা মাত্রই কিছু লোক লোহার পাইপ, লাঠি নিয়ে হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। আমাকে বাঁচাতে গায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে আমার স্ত্রী শামীমা বরকত লাকি। ওরা আমাদেরকে অনেকটা ফুটবলের মতো লাথি মারে এবং টানাহেঁচড়া শুরু করে। আমাকে ওরা টেনে গ্রামের মধ্যে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আমার স্ত্রী এবং সঙ্গীদের কারণে সেটা পারেনি।

ভেতরে নিয়ে গেলে হয়তো আর বেঁচে ফেরা হতো না। গত শনিবারের হামলার ঘটনা এভাবেই বর্ণনা দিচ্ছিলেন বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লা বুলু। গুরুতর আহত অবস্থায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি। তার মাথায় ৩২টির মতো সেলাই দিতে হয়েছে। এক হাতে গুরুতর আঘাত রয়েছে। হাসপাতালের বেডে শুয়েই মানবজমিনের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেন তিনি। হামলায় বুলুর স্ত্রী শামীমা বরকতও আহত হয়েছেন। চিকিৎসা নিয়ে তিনি বাসায় ফিরেছেন।
বুলু বলেন, পায়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছি। বাঁ হাতের কাঁধের অংশ ভেঙে গেছে। আল্লাহর রহমত এবং সবার দোয়ায় বেঁচে আছি। এভাবে হামলা হবে আমি ভাবতেও পারিনি। নোয়াখালী থেকে আমরা আসছিলাম। সোনাইমুড়ি পার হয়ে কুমিল্লায় প্রবেশ করতেই গাড়ির চাকার হাওয়া শেষ হয়ে যায়। গাড়িচালক চাকায় হাওয়া দিবেন। এ সময় মনে করলাম কাছেই একটি মক্কা-ক্যাফে নামে রেস্টুরেন্ট আছে, সেখানে বসি। বিকাল প্রায় সাড়ে ৫টা। আমাদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং থানা বিএনপি’র সেক্রেটারি ছিলেন শরীফ। তার বাড়ি রেস্টুরেন্টের পাশেই। ওখানে নামলাম। তখন বিদ্যুৎ ছিল না। জেনারেটর চলছিল। আমরা কফির অর্ডার দেই। আমি শুধু কফিটা মুখে দিবো এ সময় জিআই পাইপ, লোহার রড, হকিস্টিক দিয়ে প্রথমে ওই ইউনিয়নের তিনবারের চেয়ারম্যান শরীফকে মারধর শুরু করে। এরআগে আমার সঙ্গে দুটি মোটরসাইকেলে করে ৬ জন এগিয়ে দিতে এসেছিল। তাদের মধ্যে যুবদলের সদস্য সচিব মহিউদ্দিন রাজু, ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারুক, চৌমহনী পৌর বিএনপি’র ওয়ার্ড সভাপতি মোস্তফা, ইউনিয়ন প্রেসিডেন্ট বাবু, ভাইস প্রেসিডেন্ট এসেছিল। শরীফ এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে তার। পাইলট স্কুল, চৌমহনী কলেজের ছাত্র ছিল। তার সঙ্গে আমাদের খুব একটি ভালো সম্পর্ক রয়েছে। এখানেই যে এমন ঘটনা ঘটবে এটা জানা ছিল না। শরীফকেও খুব মারধর করা হয়েছে।

সেখানকার নতুন যে চেয়ারম্যান হয়েছে ইকবালসহ যুবলীগের কয়েকজন ছেলে এসে আচমকাই আমাদের মারধর শুরু করে। এতে মোস্তফা, রাজু, ফারুক, গাড়িচালক আলীসহ সবাই গুরুতর আহত হয়। আমাকে পেটানোর পরে রাস্তায় পড়ে গেছি তার পরও মেরেছে। আমার গাড়িটা দূরে ছিল। সেখান থেকে এক ব্যক্তি আমার স্ত্রীসহ আমাকে অটোতে তুলে দেয়। আমরা স্থানীয় একটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে কুমিল্লায় চলে আসি। এ সময় শরীফকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। মহিউদ্দিন রাজুকে নোয়াখালীর একটি হাসপাতালে এবং বাবুকে সোনাইমুড়ির একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মোস্তফাকে আমার সঙ্গে নিয়ে আসি। ওর হাত ভেঙে গেছে। সিটি স্ক্যান করতে দেয়া হয়েছে। সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, আমার বাঁ হাতটির জয়েন্ট আলগা হয়ে গেছে। যখন আমার স্ত্রী বারবার আমাকে রক্ষা করতে আমার গায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঁচানোর চেষ্টা করেন তখন ওকে তারা লোহার রড এবং জিআই পাইপ দিয়ে বেদম পেটায়। এ সময় হামলাকারীরা আমাকে গ্রামের দিকে নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়ার অনেক চেষ্টা করে। কিন্তু পারেনি। আমাকে ভেতরে নিয়ে গেলে হয়তো পরিস্থিতি অন্য কিছু হতো। তিনি বলেন, আমার নামে প্রায় ১৬০টিরও বেশি মামলা চলমান রয়েছে। মামলার হাজিরা দিতেই মূলত ঢাকায় আসা।

বুলু হাসপাতালের সার্জিক্যাল আইসিইউতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি বলেন, হামলার মূল কারণ হচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতা তাজুল ইসলামের ওখানে বিএনপি’র কেউ কোনো সভা করতে পারেনি। যেটা আমি করে দেখিয়েছি। আহত বুলুর ছোট ছেলে মাহাথিরের সঙ্গে কথা হয় হাসপাতালে। মায়ের একাধিক ছবি দেখিয়ে তিনি বলেন, আম্মু সবসময় আব্বুর সঙ্গে ছায়ার মতো থাকেন। ঘটনার দিন ওরা তাকে মারছিল এবং বলছিল এখান থেকে পালিয়ে যা। স্বামীর সঙ্গে থাকিস কেন? আম্মুর হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে। দুটি আঙ্গুল ফ্র্যাকচার হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে বাসায় থাকলেও তিনি মানসিক ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন।

About admin

Check Also

প্রধানমন্ত্রীর মহানুভবতায় চাকরি পেলেন পা হারানো ছাত্রলীগ নেতা মাসুদ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মহানুভবতায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি পেয়েছেন ছাত্রশিবিরের নৃশংস হামলায় পা হারানো ছাত্রলীগ নেতা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *