ফের বিএনপিকে দেখিয়ে দিলেন বহিষ্কৃত তৈমুর আলম, দলে পদত্যাগের হিড়িক

রাজনৈতিক দিক থেকে নারায়ণগঞ্জ একটি ভিন্ন ধরনের স্থান যেখানে বিএনপি কিংবা আ.লীগ দুই দলেই ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়ে থাকে এবং এখানে রাজনৈতিক বিষয়টি নিয়েও অন্যরকম গতি পায়। এবার বিএনপির দুঃসময়ে নারায়ণগঞ্জে কোন্দল পিছু ছাড়বে বলে মনে হচ্ছে না। তিন বছর পর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি গঠন করার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির ১৫ জন সদস্য তাদের পথ থেকে সরে গেলেন অর্থাৎ পদত্যাগ করলেন। ফলে নবগঠিত মহানগর বিএনপিকে তাদের কর্মসূচি পালনে জেলা বিএনপিসহ অঙ্গ সংগঠনগুলোর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
রোববার মহানগর বিএনপির প্রথম কর্মসূচিতে নতুন কমিটির বেশির ভাগ সদস্যের দেখা মেলেনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নগরীর শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত কর্মসূচিতে জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা না আসলে পুরো কর্মসূচিই ফ্লপ হয়ে যায়।

এ নিয়ে মহানগর বিএনপির ২৭টি ওয়ার্ডের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে চরম সমালোচনা ও ক্ষো’ভ বিরাজ করছে। তারা বলছেন, মহানগর বিএনপির যে আহবায়ক কমিটি কেন্দ্র থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে তার বেশির ভাগ সদস্যই ১১,১২ ও ১৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তবে ২৭টি ওয়ার্ডের বিএনপিপন্থী কাউন্সিলর ও সিনিয়র নেতাদের অধিকাংশই এই কমিটিতে স্থান পাননি।
এদিকে, গত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সময় দল থেকে বহিষ্কৃত তৈমুর আলম খন্দকারকে অ্যাডভোকেট করার জন্য দলত্যাগী ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ভিড় জমাচ্ছেন।

রোববার তৈমুর আলম খন্দকারের বাসায় জেলা ওলামা দলের প্রয়াত সভাপতি সামসুর রহমান বেনু ও নিহত যুবদল কর্মী শাওন প্রধানের স্মরণে আয়োজিত দোয়া অনুষ্ঠানে পদত্যাগী ১৫ নেতা তাদের পদত্যাগপত্র হস্তান্তর করেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির বর্তমান আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর মধ্যে সুসম্পর্ক থাকলেও ২০১৬ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর তাদের বিরোধ শুরু হয়।

এ সময় অ্যাডভোকেট টিপু অভিযোগ করেন, বিএনপির মেয়র প্রার্থী এড. সাখাওয়াত আওয়ামীপন্থী একটি মহল থেকে ২ কোটি টাকা নিয়ে আসলেও খরচ করেনি। এ নিয়ে দলে নানা উত্তেজনা শুরু হয়। তবে গত কয়েক মাস ধরে ওই বন্ধুর সঙ্গেই কর্মসূচিতে ছিলেন টিপু। ১৩ সেপ্টেম্বর অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে আহ্বায়ক ও অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে ৪১ সদস্যের নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব ঘোষণা করা হয়।
এদিকে কমিটি ঘোষণার পরপরই সমালোচনা ও পদত্যাগের আহ্বান শুরু হয়। দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতাদের পরিবর্তে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও নিষ্ক্রিয় ব্যক্তিদের এই কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

দলীয় কর্মীরা জানান, মহানগর বিএনপির আগের কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ৩ বারের বিএনপিদলীয় এমপি ছিলেন, তার বাবাও বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও এমপি ছিলেন।কিন্তু তাকে জায়গা দেওয়া হয়নি। বিএনপির কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে অর্ধশতের বেশি মামলার আসামি হওয়া আগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পরা রোগের যো’দ্ধা হিসেবে পরিচিতি পাওয়া সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদসহ সিটি করপোরেশনের বেশিরভাগ বিএনপিপন্থি কাউন্সিলররাই এই কিমটিতে নেই। দলের কোনো কর্মসূচিতে না থাকলেও অতীতে তারা নারায়ণগঞ্জে না আসলেও এমএইচ মামুন, মনির খান, মাহাবুব উল্লাহ তপন, হাসান আহমেদ, ফতেহ রেজা রিপনকে এই কমিটিতে পদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শেষের তিনজন শীর্ষ সন্ত্রা”সী তালিকাভুক্ত এবং দলের কোনো কর্মসূচিতে দেখা যায়নি।
এদিকে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের কাছে ভিড় জমাচ্ছেন মহানগর বিএনপির বিদ্রোহী নেতাকর্মীরা। রোববার তৈমুর আলম খন্দকারের বাসায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে বিএনপির শত শত নেতাকর্মী অংশ নেন। সেখানে তার কাছে মহানগর বিএনপির ১৫ সদস্য পদত্যাগপত্র জমা দেন।

এ সময় পদত্যাগী নেতা আমিনুর ইসলাম মিঠু বলেন, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিকে আইনজীবীদের কমিটি বলা যেতে পারে কারণ ৪১ জনের মধ্যে ৯ জন আইনজীবী নেতা। তাছাড়া ২৭টি ওয়ার্ডের অধিকাংশ কাউন্সিলর বা নেতারা এই কমিটিতে নেই। তাদের অধিকাংশই নগরীর ১১ থেকে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
তিনি বলেন, অ্যাডভোকেট তৈমুর আলমের নেতাকে বিএনপিতে ফিরিয়ে না আনলে দল মুখ থুবড়ে পড়বে। পদত্যাগ করা মহানগর স্বচ্ছসেবক দলের সভাপতি কাউন্সিলর আবুল কাউসার আশা বলেছেন, যারা দলকে দুর্বল করেছে, বিভাজন সৃষ্টি করেছে, যাদের বিচার করা উচিত ছিল, তাদের দল পুরস্কৃত করেছে।

পদত্যাগী যুগ্ম আহ্বায়ক ও বন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল বলেন, দলের জন্য যারা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করছেন তাদের মাইনাস করা মানেই বিএনপিকে দুর্বল করা। যারা পদত্যাগ করেছে তারা সবাই পরীক্ষিত ও ত্যাগী। তাই কেন্দ্রের উচিত বিষয়টি ভেবে দেখা কেন এই পদত্যাগের হিড়িক পড়ল।

এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার দেশের একটি জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিরা দলের কাজ করতে কখনো পদ চান না, কর্মচারী হয়েও দলের জন্য কাজ করা যায়। আমার পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছিল। আমি বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত, কিন্তু শহীদ জিয়ার আদর্শ এবং বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে নিয়েই আমি পথ চলছি। আমার যে সমস্ত কর্মী রয়েছে তারাও আমার মত ভাগ্যবান এবং তারা এখনো আমাকে বিশ্বাস করে।

About admin

Check Also

ওবায়দুল কাদেরের উদ্বোধনী বক্তব্যের সময় হঠাৎ গোলাগুলি, হাসপাতালেএকজন

শুধু বিরোধী দলই নয়, বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে ঘিরেও ঘটছে নানা অপ্রত্যাশিত কাণ্ড। আর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *