Breaking News

এই প্রশ্নের সমাধান করতে পারেনি আমাদের রাজনীতি

নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে রাজনৈতিক দলগুলো মাঠে সরব হচ্ছে। দেশের বড় দুইটি রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ ও বিএনপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিপরিত অবস্থান নেওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে অশুভ সংকেত লক্ষ করা যাচ্ছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সংবিধানের বাহিরে নির্বাচন সম্ভব নয় বলছে কিন্তু বিরোধী দল বিএনপি নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে অনড়। রাজ পথে এর সমাধান হবে এ বক্তব্য দিয়েছেন দুটি দলই। তবে মাঠ দখল নিয়ে দুটি দলের মধ্যে নতুন যে সংঘাতে তৈরী হয়েছে সেটি দেশকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে এমন প্রশ্নে অনেকে হতাশা প্রকাশ করেছেন।

রাজনীতির জন্য স/হিংসতা, নাকি স/হিংসতা পরাজিত করতে রাজনীতি? এই প্রশ্নের সমাধান করতে পারেনি আমাদের রাজনীতি। স্বাধীনতার ৫১ বছর পার হতে চলল, কিন্তু এখনো একটা ধারণা শক্ত করে রাজনীতির মনোজগতে বসে আছে যে, সরকারক হটাতে হয় রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করে এবং সেটাও অত্যন্ত স/হিংস উপায়ে।
আবার যে দল ক্ষমতাসীন থাকে তারও প্রচেষ্টা বিরোধীকে শক্তি দিয়েই শায়েস্তা করতে হবে। আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থা এমন যে, এখানে যে জিতে সব তার, যে হারে তার কিছু নেই। মানসিকতার পরিবর্তনই এই দুর্দশা থেকে মুক্তির একমাত্র উপায়। কিন্তু কীভাবে মানসিকতা বদলানো যায় তা সবসময়ই অজানা পথ।

তাদের অবস্থান থেকে রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি মনে করছে সরকারবিরোধী আন্দোলনের মাঠ প্রস্তুত। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি।
লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ডিজেল ও সারের দাম বাড়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। তারা সাধারণ মানুষের এই ক্ষোভকে কাজে লাগাতে তৎপর। তাদের চিন্তা তাদের জায়গা থেকে সঠিক হতে পারে। কিন্তু তারা কি সত্যি সত্যি জনমত জরিপ করেছে যে, মানুষ কীভাবে প্রতিবাদ জানাতে চায়? সেটা রাজপথের সহিংস আন্দোলন, নাকি অন্য কোনো উপায়?
যে কয়টি ইস্যুর কথা বলা হয়েছে, সেগুলো সবই জনগণের জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট। কিন্তু সেই মানুষকে কি আনা গেল রাজপথে? এই কথা সত্য বিএনপির ইদানীংকার প্রতিটি মিছিলে, সমাবেশে জনসমাগম বাড়ছে এবং এই কারণে দলের নেতৃত্ব কিছুটা হলেও আশান্বিত।
আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থা এমন যে, এখানে যে জিতে সব তার, যে হারে তার কিছু নেই..

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি রাজনৈতিক দল হিসেবে ১৫ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে রয়েছে। জন্মের পর থেকে এতদিন ক্ষমতার বাইরে থাকেনি দলটি। ক্ষমতায় জন্ম নেওয়া দল, বিশেষ করে তার নেতাদের জন্য এটি একটি বড় পরীক্ষা। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, মানুষ প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তির কাছে কর্মসূচি চায়। বিএনপির সমস্যা এখানেই। এই ১৫ বছরের বেশির ভাগ সময় বিএনপির কোনো কর্মসূচি ছিল না জনগণের জন্য।
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত জিয়াউর রহমানের পরিবারের দুই সদস্য- চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও তার বড় ছেলে তারিক রহমান- এ বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সময় কেটেছে। মা/মলার রায়ে বেগম খালেদা জিয়া জেলখানা থেকে বেরিয়ে এখন গৃহবন্দি আছেন, আর ছেলে লন্ডনে বসে দল চালাচ্ছেন।

সরকারের প্রতি মানুষের অনেক ক্ষোভ থাকতে পারে, সরকারের সমালোচনাও ব্যাপক হচ্ছে। কিন্তু বিএনপি কি জনগণকে সংযোগ করতে পেরেছে? এই প্রশ্নটি যখন উঠল তখন দেখা গেল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার ঘোষণা দিয়েছে তার দীর্ঘ সময়ের সাথী জামায়াতে ইসলামী। ফফলে আগের আন্দোলনগুলোয় রাস্তায় পেশি প্রদর্শনের জন্য যে জামায়াতকে কাজে লাগাতে পারত বিএনপি, সেটাও এখন আর সম্ভব হচ্ছে না।

জনগণ যখন কোনো দলের কর্মসূচিকে নিজেদের বলে মনে করে, তখন তারা তা গ্রহণ করে এবং আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে। তারপর রাজনৈতিক সাফল্যের প্রশ্ন আসে। বিএনপি সেটা পারছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে না।
যাইহোক, প্রশ্নের একটি বিপরীত দিকও আছে। বিএনপি মাঠে নামছে, মাঠ উত্তপ্ত হওয়ায় সরকারকে অতিমাত্রায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে হচ্ছে। উত্তেজনা ও অস্থিরতা এবং ভোলা ও নারায়ণগঞ্জে গু/লিতে তিনজনের মৃ/ত্যু প্রমাণ করে রাজনৈতিক মিছিল নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কৌশলী থাকছে না।

সরকারের প্রতি মানুষের অনেক ক্ষোভ থাকতে পারে, সরকারের সমালোচনাও ব্যাপক। কিন্তু বিএনপি কি জনগণকে সংযোগ করতে পেরেছে?
কোনো অবস্থাতেই অ/স্ত্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করা ঠিক নয়। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জে চাইনিজ রা/ইফেল দিয়ে একজন ডিবি পুলিশ সদস্যের গু/লি করার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং উঠাটাই স্বাভাবিক।
প্রশ্ন উঠবে, ভোলা এবং নারায়ণগঞ্জ—দুই জায়গাতেই কি গুলি করার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল? অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখবেন। পুলিশ রেগুলেশনস, বেঙ্গল কিংবা পুলিশ অ্যাক্ট ১৮৬১, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স এগুলোর কোনোটিতেই ইউনিফর্ম ছাড়া বিক্ষোভ সমাবেশের শৃঙ্খলা রক্ষার সুযোগ আছে বলে জানা নেই। সেটা কেন হলো তাও বোঝা দরকার।

প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করা নাগরিকদের স্বীকৃত অধিকার। সরকারও এটা স্বীকার করে। এটা শৃঙ্খলাবদ্ধ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদি তাই হয়, তাহলে শৃঙ্খলা আনতে অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করে তা ভেঙে দিতে হবে সেটা কাম্য নয় এবং মানুষের মৃত্যু হওয়া আরও বেশি দুঃখজনক। পুলিশের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি না তা দেখা দরকার।
বাংলাদেশের বাস্তবতায় রাজনীতিতে সব সময় আন্দোলন থাকবে। কিন্তু সেটা কীভাবে হবে আর কীভাবে শৃঙ্খলায় থাকবে সেটা বড় ভাবনা। বড় দলকে সংঘাতের পথ ছেড়ে শান্তির পথ খুঁজতে হবে।

মানুষ চায় শান্তির বাতাবরণে যুক্তির বিরোধিতায়, চিন্তার বিরোধিতায় গণতান্ত্রিক লড়াই। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমরা সহজেই ভোটকে যুদ্ধ বানিয়েছি, রাজনীতির বিতর্ক থেকে সরে গিয়ে খুনাখুনির পথ বেছে নিয়েছি। ব্যক্তি, দল নির্বিশেষে শুভচিন্তার উন্মেষের মধ্য বন্ধুত্বের, সম্প্রীতির বাতাবরণ হয়তো আমরা আর দেখব না।
প্রসঙ্গত, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি যে পথে হাটছে এর ভবিষ্যৎ কি হবে সেটিই ভাবার বিষয়। তবে এসব সং/ঘাত ও সং/ঘর্ষ পরিহার করে সুষ্ঠু পরিবেশ কিভাবে তৈরী করা যায় সেটির বিষয় ভাবা উচিত রাজনৈতিক দলগুলোর বলে মন্তব্য করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

About admin

Check Also

ওবায়দুল কাদেরের উদ্বোধনী বক্তব্যের সময় হঠাৎ গোলাগুলি, হাসপাতালেএকজন

শুধু বিরোধী দলই নয়, বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে ঘিরেও ঘটছে নানা অপ্রত্যাশিত কাণ্ড। আর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *