Breaking News

নাচের অ্যাকাডেমির আড়ালে ডাকাতির কার্যক্রম

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে বিদেশি পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্রসহ ছয় জনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটায় সোনারগাঁয়ের পূর্ব ভবনাথপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ম্যাগাজিন ভর্তি একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি, একটি ছোরা, একটি রামদা, একটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি তালা ভাঙার শাবল জব্দ করা হয়েছে।

জানা গেছে, এই চক্রটি নাচের অ্যাকাডেমির আড়ালে ডাকাতির কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। নাচের অ্যাকাডেমির কার্যক্রম পরিচালনার সুবাদে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে ধনী ব্যক্তিদের টার্গেট করে সখ্যতা গড়ে তুলতো তারা। পরে সুযোগ বুঝে পরিকল্পনামাফিক তাদের বাড়িতে ডাকাতি করতো। এভাবে নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ও গোপালগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ঘরবাড়িতে পরিকল্পিতভাবে ডাকাতি করেছে।

গ্রেফতার ডাকাতরা হলো- নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জের নিমাইকাসরী এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে ও ডাকাত সর্দার সাখাওয়াত হোসেন রনি (২৫), আড়াইহাজার উপজেলার জাঙ্গালিয়া দামীরদার এলাকার মৃত নুকু মিয়ার ছেলে মো. সোহেল (৩২), রাজধানীর ধামরাই থানার চৌটাইল এলাকার মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে মো. শহিদুল ইসলাম (২৬), নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুর সেনপাড়া এলাকার মৃত নাক্কু মিয়ার ছেলে আল আমিন (২৩), সাভারের কাতলাপুর এলাকার মৃত. ওমর হোসেনের ছেলে মো. ইসমাইল (৩৮), গোপালগঞ্জ জেলার রাউৎপাড়া এলাকার নারায়ণচন্দ্র দের ছেলে সুজয় দে (৩০)।

শুক্রবার দুপুরে র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল তানভীর মাহমুদ পাশা পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। তিনি জানান জানান, ডাকাতির প্রস্তুতিকালে বিদেশি পিস্তল, দেশীয় অস্ত্র ও গুলিসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ছয় জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। ডাকাত চক্রটি গত ৬ ও ২৪ এপ্রিল আড়াইহাজার থানা এলাকায় সংঘটিত ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাত সর্দার সাখাওয়াত হোসেন রনি জানিয়েছে, ড্যান্স অ্যাকাডেমির কার্যক্রমের অন্তরালে ডাকাতি করে আসছিল। সে নিজেকে কাঁচপুর এলাকায় ‘‘বন্ধু ড্যান্স অ্যাকাডেমি’’ গ্র্যান্ড মাস্টার হিসেবে পরিচয় দিতো এবং বিয়ে, জন্মদিনসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে গিয়ে প্রবাসী বা ধনী ব্যক্তিদের বাড়ি টার্গেট করতো। এ ছাড়া টার্গেট করা ব্যক্তিদের সঙ্গে কৌশলে সখ্যতা গড়ে তোলে। পরে টার্গেট করা বাড়িতে পরিকল্পিতভাবে ডাকাতি করতো। ডাকাত দলের প্রায় সবাই সমাজের বিভিন্ন স্তরের কোনও না কোনও পেশায় জড়িত। তারা তাদের নিজ নিজ পেশার অন্তরালে ডাকাতির মতো ঘৃণ্য অপরাধে জড়িত ছিল।’

তিনি বলেন, ‘এভাবে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ও গোপালগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলার প্রবাসী, ব্যবসায়ী, আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারগুলোকে টার্গেট করে পরিকল্পিতভাবে ডাকাতি কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। এ ছাড়াও ডাকাতি করতে গিয়ে মানুষকে মারধর, ছুরিকাঘাত ও গাড়ি ভাঙচুরসহ গুরুতর জখম করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।’

About admin

Check Also

পুলিশ বলল ‘নেই’, হাজতখানা থেকে স্বামী চিৎকার করে স্ত্রীকে বলল ‘আছি’

আইনজীবী এবং মানবাধিকারকর্মী আবুল হোসাইন রাজন। পুরান ঢাকার বাসা থেকে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন ২২ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *